রাজনীতি চুয়াডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গা (56)

মৌখিক নির্দেশে সিসি ক্যামেরা কেনায় জর্জরিত চুয়াডাঙ্গার ৭১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে অজুহাতে জেলা প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশে সদর উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তড়িঘড়ি সিসিটিভি লাগালে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা এখন আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠানে দোকানে বাকি রেখে শিক্ষকরা নিজেদের পকেট থেকে বকেয়া মোচন করছেন।

মৌখিক নির্দেশে সিসি ক্যামেরা কেনায় জর্জরিত চুয়াডাঙ্গার ৭১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
©অলংকরণ রফিকুল ইসলাম / we-news.com

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার অজুহাতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মনিটর স্থাপন করে। কিন্তু নির্বাচন শেষে ওই ক্রয়-বিধান লিখিতভাবে স্বীকৃত না হওয়ায় স্কুলগুলো এখন প্রশাসনিক ও আর্থিক দ্বন্দ্বে পড়েছে।

কী হয়েছে: নির্দেশনা, ক্রয় ও পরবর্তীতে অস্বীকৃতি

স্থানীয় শিক্ষাকর্মীরা বলছেন, 당시 রিটার্নিং অফিসার হিসেবে থাকা জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে মৌখিক তাগিদে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে নির্দেশ দেয়া হয় প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য। তাড়াহুড়োতে দোকানদারদেরকে অগ্রিম দিয়ে বা দোকানে বাকি রেখে ক্যামেরা বসানো হয়।

তবে নির্বাচনের পর নতুন জেলা প্রশাসক যোগদানের পর ডিসি কার্যালয় লিখিতভাবে কোনো বরাদ্দ বা নির্দেশ না দিয়ে বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে ইউএনও কার্যালয় থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আংশিক পরিশোধ দেয়া হলেও তা মোট ব্যয়ের তুলনায় নগন্য। এতে শিক্ষকদের উপর ব্যক্তিগতভাবে ব্যয়ভার চাপছে এবং অনেকেই ধার-দেনায় টাকা সংগ্রহ করছেন।

স্থানীয় শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা

কেদারগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শোয়েব হোসেন বলেন, বাধ্য হয়ে দোকানে বাকি রেখে ৪৫,০০০ টাকা ব্যয়ে সাতটি সিসি ক্যামেরা ও একটি মনিটর বসিয়েছিলেন। পরে ইউএনও অফিসের মাধ্যমে মাত্র ১৫,০০০ টাকা প্রদান করা হয়।

“বাকি ব্যয়ের বিষয়ে বারবার মাসিক সভায় তুলে ধরলেও কোনো সুরাহা মেলেনি,”

সুমিরদিয়া পুটি মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হোসনে আরা জানান, নির্দেশনায় তারা ৩১,৫০০ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন, কিন্তু পেয়েছেন মাত্র ১৫,০০০ টাকা। রেলবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নওম্নয়—নয়টি ক্যামেরা বসিয়েও তারা এখনো কোনো সরকারি বরাদ্দ পাননি।

অর্থ ও বহুলাংশে অমীমাংসিততা

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অনেক স্কুলে ক্রয়ের পুরো খরচেই কোনো সরকারি অর্থ পরিশোধ হয়নি, কেউ কেউ আংশিক পরিশোধ পেয়েছেন যা ব্যয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম। ফল হিসেবে দোকানদারদের বকেয়া দাবি শিক্ষকদের পকেট থেকে মেটানো হচ্ছে কিংবা তারা ঋণগ্রস্থ হচ্ছেন।

  • কেদারগঞ্জ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৭টি ক্যামেরা+মোনিটর = 45,000 টাকা (প্রাপ্ত: 15,000)
  • সুমিরদিয়া পুটি মোহাম্মদ প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৫টি ক্যামেরা = 31,500 টাকা (প্রাপ্ত: 15,000)
  • রেলবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৯টি ক্যামেরা বসানো; বরাদ্দ প্রাপ্ত নয়
বিদ্যালয় ক্যামেরা সংখ্যা মোট খরচ (উল্লেখযোগ্য) প্রাপ্ত অর্থ
কেদারগঞ্জ মডেল 45,000 15,000
সুমিরদিয়া পুটি মোহাম্মদ 31,500 15,000
রেলবাজার সরকারি প্রা. বিদ্যালয় উল্লেখ নেই প্রাপ্ত নেই

আইনি ও প্রশাসনিক দিক

ঘটনাটি প্রশাসনিক নির্দেশ ও তার লিখিত স্বীকৃতির অভাবের ইস্যু উত্থাপন করে। সরকার বা জেলা প্রশাসন যদি কোনো নির্দেশ দেয়, সাধারণত তা লিপিবদ্ধভাবে থাকা উচিত যাতে পরে আর্থিক ও দায়-দায়িত্ব স্পষ্ট থাকে। মৌখিক নির্দেশের ওপর হয়রানির বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কয়েকটি প্রশ্ন থেকে যায়—মৌখিক নির্দেশ কাদের মাধ্যমে প্রেরিত হয়েছিল, কেন লিখিত অনুমোদন বা বেতনবিনিয়োগের মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়নি, এবং বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য শিক্ষকদের ক্ষতিপূরণ কিভাবে নিশ্চিত করা হবে।

প্রভাব ও পরবর্তী পথ

সিসিটিভি লাগানোকে ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখলেও এখন তা শিক্ষক-প্রশাসন সম্পর্কিত বিরূপ পরিস্থিতির কারণ হয়েছে। এই অনানুষ্ঠানিক চাপের মুখে থাকা শিক্ষকদের আর্থিক দুরাবস্থার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় শিক্ষক নেতারা বিষয়টি ন্যায়সঙ্গতভাবে সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের কাছে লিখিত দাবি জানানোর পরিকল্পনা করছেন।

স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক ও রাজনীতিকে সতর্ক করে দিয়ে বলা যায়—যে কোনো নির্বাচনী প্রস্তুতি হলে সেটা লিখিতভাবে নিশ্চিত করা আবশ্যক যাতে পরে যারা কাজ করে তাদের আর্থিক ও আইনি সুরক্ষা থাকে। অ্যাসাইন করা দায়িত্বের সাথে অনানুষ্ঠানিক চাপ মিললে সিদ্ধান্তগ্রহণের স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বনিষ্ঠা বজায় রাখা কঠিন হয়।

এখন আদালত, কচকচ করা প্রশাসন বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক ও স্কুলগুলো দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক ব্যাহত অবস্থায় থাকতে পারে।

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল এআই প্রধান সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি রফিকুল, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

56চুয়াডাঙ্গা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো চুয়াডাঙ্গা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব