বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) — হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথীকে কুপানোর হুমকির একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওর বিষয়বস্তুর সূত্র অনুসারে ইস্যুটি ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী তালিকা প্রণয়নে নিষিদ্ধ সংগঠনের একাধিক নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ নিয়ে ঘটে।
প্রশাসনের জিডি ও পুলিশের বক্তব্য
জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ বলেন, ঘটনার দিনই বিকালে থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে এবং হুমকির বহু ভিডিও পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি জানান, “এখন বাকি আইনি পদক্ষেপ পুলিশ নেবে।”
অন্যদিকে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক বলেন, তাদের কাছে ভিডিও সংগ্রহ করা আছে এবং অভিযুক্তরাও ভিডিওটি থানায় দিয়েছেন, তবে তিনি জিডি হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযুক্তের গণমাধ্যমে ক্ষমা চান
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনায় নামাজুক্ত হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেদোয়ান তালুকদার ফেসবুকে লাইভে এসে ক্ষমা চেয়েছেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি ফেসবুকে একটি লিখিত বার্তাও শেয়ার করেছেন।
“প্রিয় দেশবাসী। গত ১৩ তারিখ হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথী আপুর সঙ্গে আমরা বা আমাদের পক্ষ থেকে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”
ফেসবুক লাইভে রেদোয়ান আরও বলেন যে, তাদের অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটাতে সতর্ক থাকবেন। তিনি বলেন যে সরকার ও প্রশাসনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সহযোগিতা করা হবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রণয়নকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে যে তালিকাভুক্তিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; তখনই ইউএনও'র সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ে এবং এ ধরনের হুমকিস্বরূপ ভিডিও ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার পরে উপজেলা প্রশাসন সচেতন হয়েছে বলে জেলা প্রশাসকের মন্তব্য ও পুলিশের ভিডিও সংগ্রহের তথ্য থেকে মূল্যায়ন করা যায় যে প্রশাসনিক ও আইনগত জবাবদিহি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সংক্ষেপে কি ঘটেছে
- ভিডিও: ইউএনওকে কুপানোর হুমকির একাধিক ভিডিও সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল।
- প্রশাসন: জেলা প্রশাসক জানান, ঘটনার দিনই থানায় জিডি করা হয়েছে এবং ভিডিও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
- থানার বক্তব্য: ওসি জানান কোনো জিডি করা হয়নি, তবে ভিডিও সংগ্রহ ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
- অভিযোগে প্রেক্ষাপট: ফ্যামিলি কার্ড তালিকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জটিলতা।
- অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া: ছাত্রদল নেতা রেদোয়ান তালুকদার ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চেয়েছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার প্রভাব ও সম্ভাব্য পরবর্তী ধাপ
এ ধরনের হুমকি সরাসরি সরকারি কার্যাবলীর প্রতি হুমকি ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমে ব্যাহত করার সম্ভাবনা রাখে। সূত্রগুলোর বিবরণ অনুযায়ী পুলিশ ও প্রশাসন ভিডিওগুলো যাচাই করে তদন্ত চালাচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
| দিক | প্রাপ্ত তথ্য |
|---|---|
| জিডি | জেলা প্রশাসকের কাছে করা হয়েছে—তবে থানার তথ্য অনুযায়ী জিডি হয়নি |
| ভিডিও | অনেকগুলো ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল; পুলিশ ভিডিও সংগ্রহ করেছে |
| অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া | রেদোয়ান তালুকদার ফেসবুকে ক্ষমা চেয়েছেন ও অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন |
এই প্রতিবেদনের নির্মাণের সময় সেখানে কর্মরত ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনও সাড়া দেননি এবং হোয়াটসঅ্যাপেও উত্তর মেলেনি—যদি তিনি বা অন্য কর্তৃপক্ষ পরে মন্তব্য করেন, তা যেন পরবর্তী প্রতিবেদন যোগ করা হবে।
স্থানীয় জনগণ ও সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনার ওপর নিশ্চিত ও দ্রুত পদক্ষেপ আশা করছেন। পুলিশ তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।