হবিগঞ্জের মাধবপুরে র্যাব-৯ পরিচালিত এক অভিযান থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকায় ওই অভিযানে ৩৬১ বোতল এসকাফ সিরাপ, ৬ কেজি গাঁজা ও ১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয় এবং ফাতেমা বেগম (২৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযান ও গ্রেপ্তার
র্যাব-৯ জানিয়েছে, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল মাধবপুর থানাধীন তেলিয়াপাড়া বাজার এলাকায় অবস্থানকালে রাতে গোপন সূত্রে জানতে পারে রসুলপুরের একটি বাড়িতে মাদক ব্যবসায়ীরা বৈঠক করছে। রাত ২টা ৩৫ মিনিট-এ প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব রাত ৩টা ১৫ মিনিট-এ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত লোকজন র্যাবের টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
পলাতক দুই জনের মধ্যে একজন কৌশলে পালিয়ে গেলেও ফাতেমা বেগমকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হেফাজতে মাদকদ্রব্য থাকার কথা স্বীকার করেন। ফলে ধারা অনুসারে বসতঘরের খাটের নিচে দুটি পাটের বস্তা তল্লাশি করে উক্ত পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয় ও পদক্ষেপ
গ্রেপ্তার ফাতেমা বেগম রসুলপুর এলাকার বাবুল মিয়ার স্ত্রী এবং আবুল কাশেম ও পুতুল বেগমের কন্যা বলে র্যাব জানিয়েছে। র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি ও পলাতক ব্যক্তি পরস্পর যোগসাজশে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল।
ঘটনাস্থল ও গ্রেপ্তার সহ জব্দকৃত মাদকদ্রব্য মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
লোকাল প্রভাব ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
একত্রিত করা পরিমাণ ও ধরণ বিবেচনায় এটি স্থানীয় বাজারে বিস্তীর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে পারত বলে আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এসকাফ সিরাপের মতো কফ সিরাপ মিশ্রিত ও কনট্রোলড টকস ট্রান্সপারেন্ট উপাদান—এগুলো অননুমোদিতভাবে ব্যবহার করলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে। গাঁজা বিক্রয় ও ব্যবহার এলাকায় নেশার সংস্কৃতিকে ত্বরান্বিত করে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হতে পারে।
র্যাবের বক্তব্য
র্যাব-৯ তাদের স্থায়ী নীতি এবং অভিযান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনরাবৃত্তি করেছে। তারা বলেছে যে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়িত হবে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
“মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
প্রাসঙ্গিক তথ্য — উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য
| বিবরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| এসকাফ সিরাপ | ৩৬১ বোতল |
| গাঁজা | ৬ কেজি |
| বিদেশি মদ | ১ বোতল |
স্থানীয়দের জন্য প্রাসঙ্গিক নির্দেশনা
- যারা সন্দেহভাজন মাদক কার্যক্রম দেখেন, স্থানীয় থানা বা র্যাবকে অবিলম্বে জানান।
- খোঁজখবর বা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি; অনাবশ্যক ঝুঁকি এড়াতে হবে।
- নেশাসংক্রান্ত সমস্যা থাকলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা কাউন্সেলিং সেবা গ্রহণের উপায় জানতে থানায় যোগাযোগ করুন।
মাধবপুরসহ হবিগঞ্জ জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। তবে ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা and সামাজিক সমর্থন বাড়ানো প্রয়োজন বলে অপরাধ বিশ্লেষকরা বলেন।