হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ দ্বিতীয়বার ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরের পর গ্রাসী স্রোতে পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকতে থাকে এবং বিকেলে পর্যন্ত কালীগঞ্জ ও আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
ঘটনা ও প্রাথমিক প্রভাব
স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারতের চাকমাঘাট ব্যারাজ খুলে দেয়ার অনুকম্পায় খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে দুপুরে নদীর পানি বিপৎসীমার শতকরা হিসাবে উল্লেখযোগ্যভাবে ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কালীগঞ্জ বাঁধের দুর্বল অংশটি ভেঙে যায়। ভাঙনের পর তীব্র স্রোতে পানি কয়েক মিনিটের মধ্যেই আশপাশের জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী বিকেল পর্যন্ত অন্তত দশটি গ্রামের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর জমির ধান ও সবজি; এবং হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ আছে। সড়ক অবরোধের কারণে দু’পাশে যানবাহন আটকে পড়ে, অনেক যাত্রী কোমর সমান পানি পেরিয়ে হেটে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও পূর্বের মেরামত
এই একই বাঁধ গত ৯ জুলাই রাতে ভেঙে বহু গ্রাম প্লাবিত হয়; তখনও ব্যাপক ক্ষতির খবর আসে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত কাজ শুরু করলেও, স্থানীয়রা ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, সময়মত কাজ না হওয়ায় বাঁধের দুর্বল অংশ পুরোপুরি শক্ত হয়নি এবং ফলস্বরূপ দ্বিতীয়বার ভাঙন ঘটেছে।
“আগেরবার বাঁধ ভাঙার পর আমরা ভেবেছিলাম স্থায়ীভাবে সমাধান হবে। কিন্তু মেরামতের কাজ যেভাবে হয়েছে, তাতে আমাদের আশঙ্কা ছিল আবারও ভাঙন দেখা দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেটিই হলো। এখন চোখের সামনে দিয়ে পানি ঢুকছে।” — মখলিছ মিয়া, কালীগঞ্জ এলাকা
অন্যরা জানান, তাদের পাকা ধান-ফসল তলিয়ে গেছে এবং বাসাবাড়ি থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে হচ্ছে; অনেকে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
- প্রাথমিক প্লাবিত গ্রাম: কালীগঞ্জ, সুঘর, চরহামুয়া, বনগাও, আদ্যপাশ এবং আশপাশের অন্যান্য গ্রাম।
- প্রভাবিত অবকাঠামো: হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়ক অংশত প্লাবিত, যান চলাচল বন্ধ।
- পূর্বের মেরামত ব্যয়: পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্দ ৮২ লাখ টাকা (পূর্ববর্তী রক্ষণাবেক্ষণের তথ্য)।
স্থানীয় উদ্বেগ ও সম্ভাব্য পরবর্তী ক্ষতি
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি পানি আরও বাড়ে তাহলে সড়কের বড় অংশসহ বসতি ও অধিক ফসল এলাকা সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়ে যেতে পারে। সড়ক বিচ্ছিন্ন হলে জরুরি সেবা পৌঁছানো কঠিন হবে এবং বাজারযোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হবে; এর ফলে কৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণ বাধাগ্রস্ত হয়ে ক্ষতি বাড়তে পারে।
কার্যক্রম ও প্রত্যাশা
পানি উন্নয়ন বোর্ড এই বাঁধের পরিদর্শন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন ভারতের ত্রিপুরায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পানি স্রোত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দ্রুত পানি বাড়ার ফলে বাঁধ ভেঙে যায়। স্থানীয় জনগণের দাবি—যদি মেরামত তৎপর ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে না করা হয় তাহলে ভবিষ্যতেও একইরকম পরিস্থিতি তৈরি হবে।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৯ জুলাই ২০২৬ | একই কালীগঞ্জ বাঁধে প্রথম দফায় ভাঙন; বহু গ্রাম প্লাবিত। |
| পরবর্তী ৪৩ দিন | পানি উন্নয়ন বোর্ড মেরামত কাজ শুরু (৮২ লাখ টাকার বরাদ্দ)। |
| ২৩ আগস্ট ২০২৬ | বাঁধের দুর্বল অংশ আবারও ভেঙে বড় ধরনের প্লাবন শুরু। |
বর্তমানে এলাকাবাসী নিজেরাই মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া, গবাদিপশু নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং আশ্রয় নেওয়ারতল্লাশীতে রয়েছেন। সরকারি দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া ক্ষতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত দায়িত্বশীলদের দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাত্ক্ষণিক পুনর্বাসন ও স্থায়ী মেরামতের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে বলা হচ্ছে। জরুরি সতর্কতা ও লোকজনকে নিরাপদ অস্থায়ী আশ্রয় দিয়ে বীজ, খাদ্য ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হবে।