হবিগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ফলে শুরু হওয়া তীব্র জ্বালানি সংকট ছড়িয়ে পড়েছে শিল্পখাতে। গত প্রায় ২০ দিন ধরে অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহকে ক্রমশই তীব্র আকার নেয়ার পর গত বুধবার থেকে জেলা জুড়ে অনেক কারখানায় গ্যাস সরবরাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন পর্যন্ত মোট ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে এবং প্রায় ১৫০,০০০ (দেড় লাখ) শ্রমিক অপ্রয়োজনীয়ভাবে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন।
কারখানা-মালিকদের ক্ষতির হিসাব ও রপ্তানিতে প্রভাব
শিল্পসংস্থাগুলো বলছে, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের উৎপাদন ক্ষতি হচ্ছে; বিশেষ করে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। উৎপাদন বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য রফতানি করা সম্ভব না হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার বাতিল বা বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানান, ভবিষ্যতে নতুন অর্ডার পাওয়াতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের শাহজীবাজার আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের প্রধান মো. খালেদ গনি বলেন, “হবিগঞ্জে দৈনিক প্রায় ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ বাড়ানোর কারণে শিল্পখাতে সংকট তৈরি হয়েছে।”
একই সঙ্গে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট চাহিদারও তথ্য মিলেছে। উদাহরণ হিসেবে যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) আবুল হোসেন জানান, পার্কটিতে ৬টি কারখানা রয়েছে এবং তাদের অনুমোদিত দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ছিল ১৩.৬ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সংকটময় দিনে মাত্র প্রায় ৩ মিলিয়ন ঘনফুট পাওয়া যাচ্ছিল, এবং পরে সম্পূর্ণ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমিক ও তার পরিবারের জীবিকায় প্রভাব
শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগemption বাড়ছে। কারখানাগুলোতে কাজ করা শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরই এখন মাসিক চালান, বাড়িভাড়া ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন যে অনেকে আংশিক বা পূর্ণবেতনের ক্ষতি হতে পারে, এবং ছোট দোকান-পাট ও সাপ্লাই চেইনে গার্হস্থ্য চাহিদাও কমে যেতে পারে।
- কারখানার সংখ্যা: ১৭১ টি (ছোট-বড় মিলে)
- প্রভাবিত কর্মী: প্রায় ১,৫০,০০০ শ্রমিক
- জেলা পর্যায়ে গ্যাস চাহিদা ও সরবরাহ: দরকার ≈ ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট, সরবরাহ ≈ ২০ মিলিয়ন ঘনফুট (সংশ্লিষ্টদের উদ্ধৃতি অনুযায়ী)
গ্যাস কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও সম্ভাব্য সমাধান
গ্যাস সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর কারণে শিল্পখাতে এ সংকট দেখা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে সমস্যাটি জাতীয় এবং গত ২১ জুলাই থেকে পরিস্থিতি শুরু হয়েছে; পাশাপাশি কিছু উন্নতি আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আশা করা হচ্ছে—তবে তা নিশ্চিত করার আগ পর্যন্ত শিল্পগুলো উদ্বিগ্ন।
| বিষয় | সংখ্যা/বর্ণনা |
|---|---|
| কারখানা (হবিগঞ্জ) | ১৭১ টি |
| প্রভাবিত শ্রমিক | প্রায় ১৫০,০০০ জন |
| জেলার গ্যাস চাহিদা | প্রায় ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট/দিন (আবশ্যক) |
| বর্তমান সরবরাহ | প্রায় ২০ মিলিয়ন ঘনফুট/দিন (উল্লেখিত) |
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদে রফতানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জেলার অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ প্রসঙ্গে উদ্যোগীরা নিকটস্থ সরকারের সাথে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পুনর্বহালের তৎপরতা ও ক্ষতিপূরণ বা মূল্যায়ন নিয়ে আলাপ চাচ্ছেন।
হবিগঞ্জের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে গ্যাস সরবরাহ পুনর্বহাল তথা শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার দেবার দাবি স্থানীয় শিল্প মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের। তবে গ্যাস কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নতি করবে—কিন্তু ততক্ষণ অনেক প্রতিষ্ঠানই আংশিক বা পূর্ণ উৎপাদন বন্ধ থাকা অবস্থা টিকিয়ে রাখতে পারবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উদ্যোক্তারা।