হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ভাঙা বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা হবে—এমন নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ওই ভাঙা বাঁধ পরিদর্শন শেষে এই নির্দেশ দেয়া হয়। পরিদর্শনে ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনে কি বলা হলো
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ও হুইপের উপস্থিতিতে কাজের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। পরে হুইপ ১৫ দিনের সময়সীমা ভাঙ্গা বাঁধ মেরামত করার নির্দেশ দেন এবং কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি নিয়মিত তদারকির জন্য জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
"এই অঞ্চলের মানুষকে প্লাবনে ফেলে দিয়ে রাখা চলবে না; বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত নিরীক্ষা করা হবে,"
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জানান যে, এখানে শুধু বাঁধ নির্মাণই যথেষ্ঠ হবে কি না, নাকি স্লুইস গেট স্থাপনসহ আরও জটিল প্রকল্প প্রয়োজন, তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে এসে বাঁধের বর্তমান অবস্থা যাচাই-বাছাই করছেন।
স্থানীয় প্রভাব ও ঝুঁকি
খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে পড়লে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ফসল, বসতি ও যোগাযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। লস্করপুর ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোর একাংশ গ্রামীণ অর্থনীতি—বিশেষ করে ক্ষুদ্র-ব্যালুচাষ ও মাছচাষ—এর ওপর নির্ভরশীল। বাঁধ অব্যবস্থাপনা থাকলে বন্যা জনিত ক্ষতি বাড়তে পারে এবং মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হতে পারে।
- সময়সীমা: ১৫ দিন মধ্যে মেরামত নিশ্চিত করতে হবে।
- দায়িত্বপ্রাপ্ত: জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
- কারিগরি মূল্যায়ন: বিশেষজ্ঞ দল বাঁধের বর্তমান অবস্থা যাচাই করবে।
প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশের সাথে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নিয়মিত মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজের মান ও অগ্রগতি খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে তৎপর থাকতে হবে। সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নিলে স্থানীয় জনগণ অল্প সময়ে নিরাপত্তা ফিরে পাবে।
| বিষয় | স্থিতি / নির্দেশ |
|---|---|
| পরিদর্শনকারী | পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, হুইপ জি কে গউছ |
| স্থান | খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ অংশ, লস্করপুর ইউনিয়ন, হবিগঞ্জ সদর |
| সময়সীমা | ১৫ দিন |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ | জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড |
পরিদর্শনে থাকা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ঘটনার প্রকৃতি এবং বাঁধের দূর্বলতা বিচার করে আংশিক মেরামত বা স্থায়ী পুনর্নির্মাণ—কোনটি প্রয়োজন—তা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রয়োজনে স্লুইস গেট স্থাপনসহ অতিরিক্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থার সুপারিশ আসতে পারে, যা নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও পরামর্শ
স্থানীয়রা দ্রুত মেরামত কার্য শুরু হলে আশায় রয়েছেন। যাদের জমি বা বসত বাড়ির কাছে বাঁধটি রয়েছে তারা বর্ষার আগেই স্থায়ী সমাধান দেখতে চান। প্রশাসন, প্রকৌশলী ও স্থানীয় কমিউনিটির সমন্বয়ে একটি কার্যকর মনিটরিং মেকানিজম তৈরি করা হলে পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা কমবে।
এ ঘটনায় আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে বন্যা ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও সুদৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে পর্যবেক্ষকরা বলছেন।
রিপোর্ট: সৈয়দ এখলাছুর রহমান/এনএইচআর