হবিগঞ্জ শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সবুজায়ন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সামাজিক সংগঠন স্বপ্ন সোসাইটির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান। বুধবার (১২ আগস্ট) সংগঠনের অভিযানটির তৃতীয় পর্যায়ে হবিগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে।
উদ্যোগ ও আয়োজন
দুপুরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে রোপণ কার্যক্রমটি সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্বপ্ন সোসাইটি সভাপতি অলিউর রহমান। সঞ্চালনা করেন আহরাজ উদ্দিন। সংগঠনের দিকে থেকে এই কর্মসূচি স্কুল-কলেজের পরিবেশ উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষমহল-সংরক্ষণচেতনাকে জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের তালিকা ও বক্তব্য
অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন প্রতিষ্ঠান ও সমাজের নানা পরিচিত মুখ। বক্তৃতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন:
- অধ্যাপক ইলিয়াস বখত চৌধুরী জালাল — হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ
- অ্যাডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমদ ইকবাল — বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি
- তোফাজ্জল সোহেল — খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার
- সুধীর চন্দ্র দে — হবিগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ
- শোয়েব চৌধুরী — সিনিয়র সাংবাদিক
- জহিরুল ইসলাম ও তাহমিনা আক্তার — বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকা
- সৈয়দ তাহমিদ ইসলাম — স্বপ্ন সোসাইটি প্রতিষ্ঠাতা
- মো. রায়হান (গাছ মামা নামে পরিচিত)
বক্তারা স্বপ্ন সোসাইটির এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে প্রশংসা করেন এবং কমিউনিটির স্বেচ্ছাসেবীরা যদি ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যান তাহলে শহরের পরিবেশে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলেও মত প্রকাশ করেন।
কী রকম গাছ লাগানো হয়েছে
রোপিত গাছের মধ্যে ছিল নানা প্রকারের — ফুলের গাছ, ফলদ্রু, বনজজাত ও ঔষধি উদ্ভিদ। সংগঠনটি ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে গাছগুলোর পরিচর্যা, তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
| বিষয় | বর্ণনা |
|---|---|
| স্থল | হবিগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ |
| তৃতীয় পর্যায় রোপণ | ফুল, ফল, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে |
| মূল সংগঠক | স্বপ্ন সোসাইটি (স্থানীয় সামাজিক সংগঠন) |
| প্রধান অংশগ্রহণকারীরা | শিক্ষক, পরিবেশ কর্মী, সাংবাদিক ও সংগঠন-প্রতিষ্ঠাতারা |
স্থানীয় প্রভাব ও অব্যাহত কার্যক্রম
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছপালা রোপণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে—শিক্ষার্থীরা নৈসর্গিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে, শিখে গাছের যত্ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ব। বক্তারা জোর দিয়েছেন যে, এসব গাছ শুধুই সৌন্দর্য বৃদ্ধিই করবে না, বরং জায়গার তাপমাত্রা কমানো, মাটির ক্ষয় রোধ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
স্বপ্ন সোসাইটি ইতিমধ্যে এই কর্মসূচির পূর্ববর্তী ধাপে অন্যান্য জায়গায়ও গাছ রোপণ করেছে এবং এ অভিযানটি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্থানীয় স্তরে এই ধরনের উদ্যোগ সমাজের সচেতনতা বাড়ায় এবং কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ালে অধিক ফল পাওয়া যাবে—এমনটাই বক্তারা মনে করেন।
কী করা উচিত — ব্যবহারিক পরামর্শ
- রোপণকৃত গাছগুলোর নিয়মিত জলসম্পদ ও মালচিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
- শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছপালার পরিচর্যা সম্পর্কিত সচেতনতা কর্মশালা আয়োজন করা যেতে পারে।
- স্থানীয় প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য বিভাগকে যুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হলে রোপিত গাছের টিকে থাকার হার বাড়ানো সম্ভব হবে।
স্বপ্ন সোসাইটি এবং অংশগ্রহণকারীরা আশা করছেন যে, এ ধরনের ছোট উদ্যোগগুলোর সমন্বয়ে ভবিষ্যতে হবিগঞ্জের স্কুল-কলেজগুলো সবুজ ও টেকসই হবে। স্থানীয়রা চাইলে এই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন।
উল্লেখ্য: অনুষ্ঠানের প্রধান অঙ্গবলপাত ও বক্তৃতাসমূহে অংশগ্রহণকারীদের নাম ও সংগঠনের দায়িত্বসমূহ প্রতিবেদনে অনুবাদ করা হয়েছে—সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে স্থানীয় সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন।