হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকার খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ একবার মেরামত হওয়ার পর দেড় মাস না যেতেই আবার ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, এক রাতের ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি গত শনিবার-রবিবার এলাকায় প্রবলভাবে বাড়ায় মেরামতকৃত স্থানে ভাঙন শুরু হয়ে লোকালয় পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
প্লাবিত অঞ্চল ও লোকসান
আক্রান্ত স্থানের আশপাশের কমপক্ষে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা ও প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও পুকুর-পানির ফিশারি বানের পানিতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি ও সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
- প্রতিবেদন অনুসারে পানিতে দুর্বলতাগ্রস্ত গ্রামসমূহ: দক্ষিণ চরহামুয়া, উত্তর চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, সুঘর, আদ্যপাশা, নোয়াবাদ, হাতিরথান, কটিয়াদি, বৈদ্যের বাজার, বনগাঁও ও দক্ষিণ বনগাঁও ইত্যাদি।
- গত ৯ জুলাই রাতে একই বাঁধ ভেঙে ওই অঞ্চলে কয়েকদফা প্লাবন ঘটে; তখন প্রায় ত্রিশটি গ্রামের মানুষ সমস্যায় পড়েন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
- স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন—পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামত কাজ শুরু করলেও কাজটির গতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ আছে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও দৈনন্দিন প্রভাব
গ্রামবাসীরা জানান, দেড় মাস আগে যে ক্ষতি সামলেছেন, তা এখনও কাটেনি। আবার একই স্থানে ভাঙন হলে তাদের জীবন-জীবিকা ও বাড়িঘরের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সচেতন অংশের এক দৈনিক প্রতিবেদনে স্থানীয় ইউনিয়নের বাসিন্দা এরশাদ আলী বলেন,
“দেড় মাস আগে একই স্থানে বাঁধ ভেঙে ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। মানুষ বহু কষ্টে দিনযাপন করছে; এই শোক কাটতেই আবার একই স্থানে ভাঙন হলে আতঙ্ক বাড়ছে। মেরামতে ধীরগতি ও অনিয়ম ছিল—তারাই এখনো গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ।”
স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর এবং স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থার দাবি করছেন যাতে ভবিষ্যতে একই স্থানে পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যায়। এছাড়া বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটোছুটি করছে—শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ নিরাপদ এলাকায় সরে যাচ্ছে বা সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবস্থান
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, বল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে নদীর পানির মাত্রা বাড়ার ফলে জেলার নিচু এলাকার প্লাবন ঘটেছে। তবে মেরামতকাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিতভাবে যা বললেন তা স্থানীয় প্রতিবেদনে সীমিত—পরে অফিস থেকে ব্যাখ্যা আশা করা হচ্ছে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয় বনাম অবকাঠামোগত প্রস্তুতি
উজানের ঢল বা পাহাড়ি ঝড়-জলাধারের কারণে নদীর পানি বাড়ে—এটি স্বাভাবিক দুর্যোগজনিত ঘটনা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ যে মেরামত কাজ ধীরগতির এবং তদারকি-স্বচ্ছতার অভাব ছিল, ফলে ভাঙনের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তাত্ত্বিকভাবে যদি মেরামত কার্য ত্বরান্বিত ও শক্তভাবে করা যেত, তাহলে একই অংশে এত দ্রুত পুনরায় ভাঙন এড়ানো যেত বলেই তারা মনে করেন।
| অংশ | তথ্য |
|---|---|
| ভাঙনের প্রথম ঘটনা | ৯ জুলাই — স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় ৩০ গ্রাম প্লাবিত |
| নতুন ভাঙন | ২৩ আগস্ট — উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মেরামতকৃত স্থানে ভাঙন শুরু |
| প্লাবিত গ্রাম | প্রায় ২০ গ্রাম (প্রতিবেদন ভিত্তিক) |
স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকারী সংস্থাগুলোকে অবিলম্ভে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে—যাতে ত্রাণ-সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যানুপাতিক জরুরি চাহিদা, ত্রাণ বিতরণ ও মেরামত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখাও স্থানীয়দের অন্যতম দাবি।
WE NEWS হবিগঞ্জ জেলা প্রতিবেদক — ঘটনার পরবর্তী যাচাই, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে আমরা অনুসরণ করে রিপোর্ট আপডেট করব।