হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সবচেয়ে আলোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মামলায় আড়াই বছর পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাহুবল মডেল থানার পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন-কে গ্রেপ্তার করে এবং পরে তাঁকে মামলার আরও তদন্তের স্বার্থে হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-র কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কী ঘটেছিল — ঘটনাচক্রের সংক্ষিপ্ত রূপ
নিহত ছিলেন বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যিনি মিরপুর আলিফ সোবহান চৌধুরী কলেজের ছাত্রও ছিলেন। সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চের শুরুর দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের প্রায় পাঁচ দিন পর হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পৈল গ্রামের কাছের একটি হাওর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায়, হাত-পা বাঁধা সাইফুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি তখন পচে-গলে বিকৃত অবস্থায় ছিল।
কঠোর প্রাথমিক তদন্ত ও মামলা
পরিবার সূত্রে জানানো হয়, সাইফুলের বাবা আব্দুল মালিক ওই ঘটনার পরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ দিন তদন্তে কোনো পূর্ব নির্ণায়ক ফল না আসায় মামলা তদন্তের দায়িত্ব পরে হস্তান্তর করা হয় হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।
- নিখোঁজ: ২০২৪ সালের মার্চের শুরুর দিকে (পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর)।
- লাশ উদ্ধার: নিখোঁজ হওয়ার প্রায় পাঁচ দিন পরে পৈল গ্রামের কাছের একটি হাওর থেকে।
- প্রাথমিক চিহ্ন: বস্তাবন্দি, হাত-পা বাঁধা, লাশ পচে-গলা অবস্থায় ছিল।
জানানো হয়েছে, তদন্তে পুলিশের ধারণা ছিল দুর্বৃত্তরা হত্যার পর আলামত লোপাট ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যেই বস্তাবন্দি করে পানি নিক্ষেপ করেছিলেন। হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।
গ্রেপ্তারকৃতের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থান
গ্রেপ্তার জসিম উদ্দিন বাহুবল উপজেলার গগলপুর গ্রামের বাসিন্দা; তিনি হুসন আলীর ছেলে। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন—এই তথ্যটি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যাচাই করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রঞ্জিত চন্দ্র বলেন, “দীর্ঘ তদন্তে সাইফুল হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।”
ওসি রঞ্জিত আরও বলেন, “তদন্তের মাধ্যমে খুব শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য এবং এর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।” এই প্রতিশ্রুতিতে মামলার পরিবারের কাছেও যে কিছু আশা জেগে উঠেছে, তা সূত্রগুলোতে প্রতীয়মান।
| দিক | তথ্য |
|---|---|
| নিহত | সাইফুল ইসলাম, সাতকাপন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, মিরপুর আলিফ সোবহান চৌধুরী কলেজের ছাত্র |
| গ্রেপ্তার | জসিম উদ্দিন, গগলপুর গ্রামের হুসন আলীর ছেলে |
| প্রাথমিক ঘটনা কাল | ২০২৪ সালের মার্চ (নিখোঁজ), লাশ উদ্ধার নিখোঁজের প্রায় পাঁচ দিনের মধ্যেই |
| বর্তমান তদন্ত | হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তদন্তভার |
স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরেই মামলার নিয়মিত অগ্রগতি জানতে চেয়ে আবেদন করে আসছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদন ধীরে ধীরে নানা ধাপে এগিয়ে আসলেও ক্ষোভ ও উদ্বেগও ছিল—বিশেষ করে যখন ঘটনার কোনো দ্রুত সমাধান না মেলেনি। গ্রেপ্তার সংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসীর কাছে তা আলোচনার বিষয়になয়।
জরুরি পরিস্থিতিতে এখন তদন্তকারী ডিবি কর্মকর্তারা গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে ঘন ঘন জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পর্ক ও সম্ভাব্য সহচরদের সন্ধান চালাবেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এই মামলার বিচারে দ্রুত অগ্রগতি হলে আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো দাবির উপরে দাঁড়িয়ে থাকা অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে—তবে তা নির্ভর করছে ডিবি তদন্তের ফলাফলের উপর। স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সংগঠনও এই ঘটনার দিকে নজর রাখছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
হবিগঞ্জ থেকে আরও তথ্য পাওয়া মাত্র এই প্রতিবেদনের আপডেট দেওয়া হবে।