সোমবার নয়—শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের পাশাপাশি বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন তিনি এবং রোগী সেবা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও কার্যক্রমের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনে দেখা অনিয়ম ও নির্দেশ
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে রিগান হোসেন নামে এক ফার্মাসিস্টকে তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ দেন। তিনি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মানকে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় নিম্নস্তরের হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রী হাসপাতালে আসা রোগীদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনে তদনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন।
“দেশের অন্যান্য জেলার হাসপাতালের তুলনায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থা খারাপ।”
কোন কোন ইউনিটে নজর দেওয়া হয়েছিল
| ইউনিট | ত্রুটির ধরন (পর্যবেক্ষণ) |
|---|---|
| সার্জারি বিভাগ | পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কর্মী উপস্থিতি বিষয়ে ত্রুটি |
| বহির্বিভাগ | রোগী সেবা ও অপেক্ষা ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ |
| ফার্মেসি | এক ফার্মাসিস্টের ডিউটিতে অনুপস্থিতি—তার বদলী নির্দেশ |
স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মন্ত্রী
পরিদর্শনকালে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার। এছাড়া জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রতিনিধিরাও ছিলেন। মন্ত্রী স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
টিকাদান ও জনস্বাস্থ্য প্রসঙ্গ
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী আরও জানান, আগামী তিন সপ্তাহ পর সারাদেশে একটি হাম প্রতিরোধক টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। তিনি মা ও অভিভাবকদের লক্ষ্য করে শিশুদের টিকার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা এবং শালদুধ খাওয়ার পরামর্শে গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী বলেন, হাম প্রতিরোধে মায়েদের সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
রোগীদের অভিযোগ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
মন্ত্রী উপস্থিত থাকাকালীন হাসপাতালে থাকা রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নেন। রোগীদের কফিপতি অভিযোগ, পরীক্ষার সহায়ক পরিষেবা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে মন্ত্রী মনোযোগ দেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। জেলা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলোর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করবে বলে সূত্রে জানা গেছে।
প্রাথমিক ফলাফল ও আশা
আকস্মিক এই পরিদর্শন হাসপাতালে কিছু দফা প্রশাসনিক বিষয় আরোগ্যগত দ্রুত সমাধানের পথে ধাপ বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। হাসপাতালের বহুল ব্যবহৃত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রোগীর স্বাচ্ছন্দ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জরুরি ওষুধ সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন হলে রোগীর সেবায় তাত্ক্ষণিক উন্নতি দেখা যেতে পারে—এটাই আশা হাসপাতাল প্রশাসনের এবং রোগীদের।
- পরিদর্শনের সময়: শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬ (দুপুর)
- হাসপাতালের ধরন: ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল
- সিদ্ধান্ত: ফার্মাসিস্ট বদলি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান দ্রুত উন্নতির নির্দেশ
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগামী দিনে হাসপাতালের কার্যক্রমে কি ধরনের পরিবর্তন করা হবে এবং সেগুলো রোগীদের কাজে কবে লাগু হবে—সেই বিষয়ে WE NEWS অনুসরণ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।