“বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝালকাঠি জেলায় শুরু হয়েছে এক সাত দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের করা বর্ণাঢ্য র্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়, সেখানে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।
উদ্বোধন ও আলোচনা
উদ্বোধন শেষে শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পরিষদের প্রশাসক, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সভায় বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন।
বক্তারা একাধিকবার জোর দিয়ে বলেন যে, “শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে।” তারা স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই গাছরোপণ সম্ভব না বলে মন্তব্য করেন।
বৃক্ষমেলার আয়োজন ও লক্ষ্য
আয়োজকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মেলায় মোট ১০টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্টলে রাখা রয়েছে প্রায় ৪০০ প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি চারা। মেলায় গাছপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে, বর্তমান স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ক্রেতা ও আগ্রহীদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
- আয়োজক: জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ
- সময়কাল: সাত দিনব্যাপী
- স্টল সংখ্যা: ১০টি
- চারা প্রজাতি (প্রায়): ৪০০
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আয়োজক | জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ |
| সময়কাল | ৭ দিন |
| স্টল | ১০টি |
| চারা | প্রায় ৪০০ প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি |
স্থানীয় প্রভাব ও অগ্রাধিকার
বৃক্ষরোপণ অভিযান ও মেলার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন—জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গাছরোপণের আগ্রহ সৃষ্টি করা। স্থানীয়দের জন্য গাছপালা কেনার সুযোগ তৈরি হওয়া ছাড়াও প্রতিটি গাছের সঠিক পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জনশিক্ষণের ব্যবস্থা এই আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে তোলা হয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশবিদ ও অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, শহর ও গ্রামে বেশি করে গাছ লাগালে গ্রীন কভার বৃদ্ধি পাবে, মাটির ক্ষরণ কমে, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিচক্রণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবেশগত শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
ধাপগুলো: রোপণ থেকে রক্ষণাবেক্ষণে
আলোচনায় উঠেছে, শুধু উদ্যাপন পর্যায়ে গাছ দেওয়া নয়; গাছ রোপণের পরে তাদের পর্যাপ্ত যত্ন, সেচ ও রোগবালাই প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি অপরিহার্য। আয়োজকরা স্থানীয় সরকারি ও অরাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে জড়িত করে একটি নির্দিষ্ট তালিকা অনুযায়ী রোপিত গাছগুলোর পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা করতে রাজি রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
মেলার সময় ও পরে গৃহীত পদক্ষেপগুলো কার্যকর হলে ঝালকাঠি জেলায় দীর্ঘমেয়াদীভাবে বৃক্ষপল্লব বৃদ্ধি পাবে—এটাই আয়োজকদের প্রত্যাশা।
সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ব
আলোচনায় জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য বক্তারা নাগরিকদের প্রতি পরিষ্কার অনুরোধ জানান—বাড়ি-দোকান ও রাস্তার ধারে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা হবে; পাশাপাশি বর্জ্য যাতে খোলা জায়গায় না ফেলা হয় এবং রোপিত গাছের যত্ন নেওয়া হয় তারও গুরুত্ব বাড়াতে হবে। তারা বলেন, বন ও গাছপালার রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রিকভাবে সমাজের দায়িত্ব, ব্যক্তিগত নয় শুধুই আন্তর্জাতিক বা সরকারি উদ্যোগের ব্যাপার নয়।
বৃক্ষমেলা চলাকালে স্থানীয় সরকারি বাড়ি, স্কুল ও কলেজগুলোকে অংশগ্রহণ ও গাছরোপণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে মেলার মাধ্যমে গাছপালার বিষয়ে অধিক সংখ্যক মানুষ সচেতন হবে এবং বাস্তব কর্মে নামবে।