ঝালকাঠি: সরকারি প্রকৌশল ক্ষেত্রের নামে পরিচিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্থানীয় শাখায় দীর্ঘদিন ধরে ভাউচার ও দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কাজ করে আসা মানুষগুলো সোমবার (২৪ আগস্ট) জেলা সদর গণপূর্ত ভবন চত্বর থেকে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। আন্দোলনকারী প্রতিনিধিরা তাদের চাকরি নিয়মিতকরণ, সংশ্লিষ্ট আদালতের রায় বাস্তবায়ন ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ করার দাবি জানায়।
প্রতিবাদে অংশদার ও বক্তব্য
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেন গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজিঃ বি-১৬৪৭) জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মচারীরা। নেতারা বলেন, বহু বছর ধরে তারা ঠিকাদারি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে থাকলেও আজও তাদের চাকরি নিয়মিত করা হয়নি এবং সেই সঙ্গে আদালতে যেসব favourable রায় এসেছে সেগুলোও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মো. নুর আলম, আব্দুল বারেক, প্লাম্বার শাখার আনোয়ার হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর গাড়ি চালক মো. রফিকুল ইসলাম, এবং প্রয়াত কর্মী শাহজাহান শিকদারের পরিবার থেকে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী বিউটি বেগম ও কন্যা তাসনুবা আক্তার। তারা দ্রুত দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুমকি দেন।
কী কী দাবি করা হয়েছে
- চাকরি নিয়মিতকরণ — দীর্ঘদিনের ভাউচার ও দৈনিক ভিত্তিক কর্মীদের সরকারি পদে স্থায়ী করা।
- আদালতের রায় বাস্তবায়ন — আদালতে থাকা বা ইতিমধ্যে আসা favourable রায়ের প্রতিপালন নিশ্চিত করা।
- আউটসোর্সিং প্রথা বিলুপ্ত — ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নয়, সরাসরি গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে কর্মচারী নিয়োগ ও রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা।
উপস্থিত নেতারা দাবি করেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ তাদের নিরাপত্তাহীন করে এবং কর্মপরিবেশ দুর্বল করে দেয়; ফলে সামাজিক ও আর্থিক অধিকার থেকে অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন।
মিছিল ও কর্মসূচির ভৌগলিক পরিধি
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল গণপূর্ত ভবন চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে জেলা কমিটির নেতারা ও গণপূর্তের বিভিন্ন শাখার কর্মচারীরা অংশ নেন। স্থানীয় পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হলেও কোনও বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে অভিযোজকরা জানান।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য বিকাশ
এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত জেলা প্রশাসন বা গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্থায়ী কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কর্মচারী ইউনিয়ন তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসূচি আরম্ভ করার সতর্কতা জানিয়েছে, যা প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষদের জন্য নীতি-নির্ধারণ ও পরিবহন-ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা
এই ধরনের দাবি ও আন্দোলন শুধু নিয়োজিত ব্যক্তিদের স্বার্থে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সরকারি প্রকল্পের স্থিতিশীলতা, কাজের ধারাবাহিকতা এবং দায়বদ্ধতার বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে জনসেবায় প্রভাব ফেলতে পারে। আউটসোর্সিং বানিজ্যিক সুবিধা দিলেও কর্মীদের অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও সুযোগ-অবণয়নে প্রশ্ন উঠছে—এগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করতে হবে।
| বিষয় | প্রভাব/অপেক্ষা |
|---|---|
| চাকরি নিয়মিতকরণ | কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা ও বেতন-স্বার্থ নিশ্চিত হওয়া |
| আদালতের রায় বাস্তবায়ন | আইনগত স্থিতিশীলতা ও ঝামেলা কমে আসা |
| আউটসোর্সিং বন্ধ | সরাসরি নিয়োগ হলে কর্তৃপক্ষের তদারকি বাড়বে, ঠিকাদারি বিষয়ক ভিন্নতা কমবে |
স্থানীয় রাজনৈতিক জীবন ও জনসেবা সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্তরা এই ঘটনার ওপর মনোযোগী হলে সমস্যা সমাধানের পথ সহজ হতে পারে। শ্রমিক সংগঠনগুলো সাধারণত দীর্ঘ আন্দোলনের পরই টেকসই প্রতিশ্রুতি পায়; তাই ভবিষ্যতে প্রশাসন-কর্মচারী ইউকরণে সংলাপ স্থাপন করাও সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখা যায়।
এ aanleidingেই স্থানীয় জনগণের নজর এখন সরকারের নিয়োগনীতি ও আদালতের রায় বাস্তবায়নের গতিভাগে। নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত রাখতে এবং কর্মীদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ কাম্য বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।