অপরাধ কিশোরগঞ্জ কিশোরগঞ্জ (06)

কিশোরগঞ্জে বাবাকে হত্যার অভিযোগে ছেলের যাবজ্জীবন দণ্ড

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত ২০১৫ সালের ঘটনায় বাবাকে হত্যার দায়ে মো. সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন; একই মামলায় তিনজন খালাস পেয়েছেন।

কিশোরগঞ্জে বাবাকে হত্যার অভিযোগে ছেলের যাবজ্জীবন দণ্ড
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার স্বল্পযশোদল ভুরিরচর গ্রামে ২০১৫ সালের একটি পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় ঘটানো হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হয়েছে। অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ এর কোর্ট সোমবার (১৭ আগস্ট) এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. সেলিম-কে জাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

আদালত ও রায়ের বিবরণ

রায় ঘোষণা করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। মামলার যথাযথ বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই ভুরিরচর গ্রামের আবু বাক্কার সিদ্দিক ও তাঁর ছেলের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। ঘটনার কয়েকদিন পর, ৩০ জুলাই রাতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সিদ্দিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।

আদালতে ঘটনার পরবর্তী ক্রম

সংবাদে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পরের দিন মো. সেলিম নিজেই ঘটনার দায় স্বীকার করেন এবং নিজের পেটে ছুরি চালানোর চেষ্টা করেন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে নিহতের ছোট ভাই মো. আবু হানিফ কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত উল্লেখিত সাজা দেন।

  • ঘটনার তারিখ: ২৪ জুলাই ২০১৫ (পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়)
  • হত্যার তারিখ: ৩০ জুলাই ২০১৫ (রাতের সময়)
  • রায় ঘোষণা: সোমবার, ১৭ আগস্ট (আদালত)

অন্য আসামিদের অবস্থান

একই মামলায় তিনজনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন: নিহতের স্ত্রী মোছা. আছিয়া খাতুন, এক ছেলে মো. জাবেদ এবং পুত্রবধূ মোছা. ময়না খাতুন। আদালতের রায়ে এই তিনজনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি বলে তাদের ব্যতিক্রমী অবস্থান দেওয়া হয়েছে।

“রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সেলিম আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন,”

স্থানীয় আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলাটি গত কয়েক বছর ধরে বিচারের বিভিন্ন পর্যায়ে ছিল। রায়ের পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলার অনানুষ্ঠানিক প্রভাব ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে কোনও অতিরিক্ত বিবৃতি দেননি।

পদক্ষেপ তারিখ/বিবরণ
পারিবারিক বিরোধ ২৪ জুলাই ২০১৫
হত্যা ৩০ জুলাই ২০১৫ (রাত)
মামলা দায়ের নিহতের ছোট ভাই মো. আবু হানিফ কিশোরগঞ্জ মডেল থানায়
রায় ১৭ আগস্ট, অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ কোর্ট (জাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ড)

স্থানীয় সাংবাদিক ও মামলার নথি থেকে পাওয়া তথ্যের আলোকে এটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়—পারিবারিক বিবাদ থেকে সহিংসতার মাত্রা বেড়ে ওঠা এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংহত রায়প্রকাশ, এই ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের সামাজিক ও ন্যায়বিচারমূলক আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

আদালতের রায়ের ফলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন ও সামাজিক সহায়তার বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকর্মীদের দায়িত্বের তালিকায় উঠে আসবে বলে উদ্বেগ ও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে খালাসপ্রাপ্ত তিনজনের সামাজিক অবস্থান ও তাদের বিরুদ্ধে আর কোনও বিধান চালানো হয়নি—এ বিষয়টি স্থানীয় সমাজে ব্যাপক প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।

রায়প্রকাশকালে কোর্ট-রেকর্ড, পুলিশী রিপোর্ট ও মামলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিবৃতির ওপর নির্ভর করা হয়েছে; রিপোর্টে উচ্চতর পর্যায়ের কোনো আপিল বা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার উল্লেখ নেই। কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের বিচারপ্রক্রিয়া ও সামাজিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাটির প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

06কিশোরগঞ্জ

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো কিশোরগঞ্জ, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব