ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) রাজধানীর শিশু কল্যাণ পরিষদ ভবন থেকে তাদের অফিস উচ্ছেদ সংক্রান্ত নোটিসকে আইনবহির্ভূত ও গণতন্ত্রবিরোধী দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ করেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দলটির সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এক যৌথ বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেন।
জাসদের দাবি ও অভিযোগ
জোড়া বিবৃতিতে জাসদ নেতারা বলেন, শিশু কল্যাণ পরিষদ কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে তাদের কাছে কার্যালয় খালি করার নোটিস পাঠিয়েছে, যার পেছনে পুলিশের মৌখিক নির্দেশ এবং ভাড়ার বকেয়াকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, পুলিশের এই ধরনের নির্দেশ তাদের কাছে বোধগম্য নয় এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি কার্যক্রম।
"শিশু কল্যাণ পরিষদ ভবনেই আমাদের নিবন্ধিত ঠিকানা; নিবন্ধিত কোনো দলের কাজ পুলিশের মর্জি রক্ষা করা নয়, বরং দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা," বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে জাসদ নেতারা আরও বলেন, ওই ভবনে অন্যান্য কয়েকটি রাজনৈতিক দলেরও কার্যালয় রয়েছে এবং ভবন কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে দলগুলোকে অফিস ভাড়া ও সভাকক্ষ ভাড়া দিতেও থাকে। এছাড়া ভবনের ইউটিলিটি বিল পরিশোধিত আছে ও তাদের অগ্রিম টাকাও জমা রয়েছে—এইসব বিবেচনায় হঠাৎ নোটিস দেওয়া সন্দেহজনক বলে দাবি করেছেন তারা।
পূর্বের ঘটনা: ১৫ আগস্টের পুলিশী অভিযান
জাসদ নেতারা উল্লেখ করেছেন, ১৫ আগস্ট—বঙ্গবন্ধুর হত্যা দিবসে সহিংসতা রোধের নাম করে পুলিশ তাদের কর্মসূচি বাধা দেয় এবং সেই দিনে সকাল থেকে পুরো ভবলে "ভয় ও ত্রাসের পরিস্থিতি" সৃষ্টি করা হয়। সে ঘটনাক্রমকে তারা উচ্ছেদ নোটিস জারির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করে দেখছেন এবং এটিকে দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক অধিকার হরণের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
ভাড়ার হিসাব ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সম্পর্কে দাবি
বিবৃতিতে জাসদ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ভবনটি লকডাউনে থাকায় কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া পড়েছিল; কিন্তু সেটি পরে নিয়মিতভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে পূর্বে ভবন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভাড়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ ছিল না। তাছাড়া, বিল ও অন্যান্য জরুরি অর্থ পরিশোধিত আছে এবং ভবন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অগ্রিম টাকাও রয়েছে।
- দলটির অবস্থান: নোটিসকে রাজনৈতিক অধিকার সঙ্কুচিত করার চক্রান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- কেন্দ্রীয় অভিযোগ: পুলিশের মৌখিক নির্দেশে ভবন কর্তৃপক্ষ নোটিস জারি করেছে—যা তারা আইনবহির্ভূত দাবি করেন।
- পূর্ব ঘটনার যোগসূত্র: ১৫ আগস্টের পুলিশের অভিযানের সঙ্গে বর্তমান উচ্ছেদ নোটিসের সম্পর্ক খতিয়ে দেখার দাবি।
প্রাসঙ্গিকতা ও পরে করণীয়
ঘটনাটি রাজনৈতিক অধিকার, সংগঠন-সংস্থার নিবন্ধন ঠিকানার সুরক্ষা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সীমা সংক্রান্ত জটিলতার প্রতিচ্ছবি। জাসদ তাদের অফিসকে দলীয় নিবন্ধিত ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেছে; এমনকি যদি ভবন কর্তৃপক্ষ ভাড়া সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকে, তবুও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা অনুসরণ করে তবেই সমস্যা সমাধান হওয়া উচিত—এটাই তাদের দাবি।
এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পায়:
| প্রশ্ন | প্রাসঙ্গিকতা |
|---|---|
| ভবন কর্তৃপক্ষের নোটিসের নীতিগত ভিত্তি | ভাড়ার বকেয়া, ইউটিলিটি বিল বা পুলিশি নির্দেশ—কোনটি অফিস খালি করার মূল কারণ |
| পুলিশি হস্তক্ষেপের স্বচ্ছতা | মৌখিক নির্দেশের অস্তিত্ব আছে কি না এবং তা কোন আইনগত ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে |
| দলের নিবন্ধিত ঠিকানার সুরক্ষা | নিবন্ধিত রাজনৈতিক সংগঠনের অফিস উচ্ছেদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি-নীতি |
জাসদের বিবৃতিতে এসব অভিযোগ থাকলেও, সংবাদ সংগ্রহের সময় ভবন কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষে এখনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের বক্তব্য আদলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে।
রাজনৈতিক দলের অফিস সম্পর্কিত আইন, ভবনভিত্তিক ভাড়ার বিরোধ, এবং পুলিশি হস্তক্ষেপ—এই তিনটি দিক মিলিয়ে গণতন্ত্রের বিস্তারের স্বার্থে সংঘটিত এ ধরণের ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও মীমাংসা প্রয়োজন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।