জেলার হাসপাতালগুলোতে চাপ বেড়েছে
আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহে খুলনা জেলায় ৭৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৪ জন, বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মোট ৭৯৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৭ জন।
সংখ্যাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা গত সাত মাসের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিষয়টি হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজে শয্যা সংকট
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ও নগরের জেনারেল হাসপাতাল দুটিতেই শয্যা সংকট প্রকট হচ্ছে। খুমেকের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আরিফ মোহাম্মাদ জানান, হাসপাতালটি সাধারণ সময়েও রোগীর চাপে থাকে; ডেঙ্গু বাড়ায় এখন মেডিসিন, শিশু ওয়ার্ডের পাশাপাশি বারান্দার মেঝেতেও রোগী রাখা হচ্ছে।
“এ হাসপাতালে এমনিতেই শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ বেশি থাকে। এখন ডেঙ্গু রোগী বাড়ায় মেডিসিন, শিশু ওয়ার্ড ও বারান্দার মেঝেতে রোগী রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে অন্য রোগীরাও কিছুটা ঝুঁকিতে পড়ছেন।”
নগরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. রফিকুল ইসলাম গাজীও একই চিত্রের কথা বলেছেন। তিনি জানান, মেডিসিন বিভাগের দুটি ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ২৫টি, অথচ সেখানে কেবল ডেঙ্গু রোগীই ভর্তি রয়েছেন ৪০ জন।
নগরের রেড জোন ও উপজেলা পরিস্থিতি
খুলনা সিটি করপোরেশন চিহ্নিত করেছে নগরের কিছু এলাকায় ডেঙ্গু প্রভাব বেশি। চরিতার্থ করে সিটি করপোরেশন যে চারটি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেগুলো হলো:
- ২২ নম্বর ওয়ার্ড — কাস্টমঘাট ও কয়লাঘাট
- ২৮ নম্বর ওয়ার্ড — পশ্চিম টুটপাড়া, মিয়াপাড়া ও কারাপাড়া
- ২৯ নম্বর ওয়ার্ড — হাজী মহসিন রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, টিবি ক্রস রোড ও গগন বabu রোড
- ৩০ নম্বর ওয়ার্ড — টুটপাড়া ও মতিয়াখালী
জেলায় নয়টি উপজেলার মধ্যে রূপসা উপজেলাতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ ও ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি রয়েছে বলে সিভিল সার্জন জানিয়েছেন। সেখানে এ সময় ২১ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও জরুরি প্রস্ততি
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালনার তথ্য অনুসারে বর্ষাকালে দ্রুত রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে—এই ঝুঁকি মাথায় রেখেই হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুলনার সিভিল সার্জন মোছা. মাহফুজা খাতুন জানিয়ে দিয়েছেন, মাঠপর্যায় রোগীর জ্বর দেখা দিলেই পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে বলা হয়েছে।
| সময়সীমা | হাসপাতালে ভর্তি (জন) | মৃত্যু (জন) |
|---|---|---|
| জানুয়ারি–জুলাই | ৭৯৬ | ৭ |
| আগস্টের প্রথম ১৪ দিন | ৭৭৪ | ৪ |
প্রভাব ও স্থানীয় পরামর্শ
এই পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, দ্রুত চিকিৎসা ও রোগনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না নিলে হাসপাতালের ক্রিয়াশীল সেবা উপরোক্ত চাপে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে বলে রাখা প্রয়োজন—ডেঙ্গু আক্রান্তর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে গেলে শয্যা, ওষুধ ও পর্যাপ্ত মেডিক্যাল স্টাফের ব্যবস্থা জরুরি।
নাগরিকদের জন্য স্থানীয় সুপরামর্শগুলো হলো:
- হঠাৎ জ্বর হলে ঝটপট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ডায়গনস্টিক পরীক্ষা করানো।
- পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ ও নির্ধারিত চিকিৎসা অনুসরণ করা।
- বাড়ির চারপাশে জলের কলকল, ডাস্টবিন, পাত্রে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা ও মশার প্রজননস্থল নষ্ট করা।
বর্তমান সংখ্যা ও হাসপাতালের অবস্থা নির্দেশ করে দ্রুত সমন্বিত কর্মপন্থা না নেওয়া হলে শীঘ্রই রোগীর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ পদক্ষেপই এই ঢেউ সামলাতে কার্যকর হবে বলে চিকিৎসকরা মনে করেন।