খুলনা: মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল সম্পর্কিত মামলায় খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালত দুই জনকে জাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরানা পরিশোধ না করলে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত ও রায়ে নির্দেশ
রায় ঘোষণার দায়িত্বটি পালন করেন আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম, যা আদালত সূত্রাবলী নিশ্চিত করেছেন বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম। দণ্ডিতরা হলেন খুলনা সদর থানার বাসিন্দা সিরাজ খাঁ ও পুলিশ লাইনস পশ্চিম গলির বাসিন্দা হারুন অর রশিদ। রায় ঘোষণা কালীন তাদের কোনোই ব্যক্তি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা ঘটে ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল ভোরে। পুলিশের একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার তদন্তকারী সদস্যরা জানতে পারেন যে দুইজন মাদক ব্যবসায়ী মিষ্টির প্যাকেটে ফেনসিডিল লুকিয়ে জেলখানাঘাট পারাপার করছেন। ওই তথ্যের পর পুলিশ সেন্স বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়।
সূত্রে বলা হয়েছে, ভোর ৫টা ২০ মিনিট-এর দিকে ঘাট পার থেকে আসা তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে করে তল্লাশি চালানো হলে মিষ্টির প্যাকেটে লুকানো অবস্থায় ১০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী ইনস্পেক্টর মুক্ত রায় চৌধুরী মাদক আইনে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে আনুষ্ঠানিক তদন্তে এসআই মো. লায়েকুজ্জামান অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।
আলোচ্য আইনী পর্যায়
রায় অনুযায়ী প্রত্যেক আসামিকে যাবজ্জীবন এবং জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাসের কারাদণ্ড যুক্ত করা হয়েছে। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী এই সাজা প্রযোজ্য করা হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশ্লিষ্ট ধারার অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ায়।
- রায়ের তারিখ: ১৩ আগস্ট ২০২৬
- অবজারভেশন সময়: ভোর ৫টা ১০–২০ মিনিট (২০১৯-04-29)
- উদ্ধারকৃত ফেনসিডিল: ১০ বোতল
- সাজা: যাবজ্জীবন, ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
এই রায়ের ফলে খুলনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ নীতির বাস্তবায়ন বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন কঠোর শাস্তি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব রাখে, তবে কিছু মহল প্রশ্ন তুলছে—আটক ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত-প্রক্রিয়া ও প্রমাণের স্বচ্ছতা ছিল কী না।
আদালত থেকে নিশ্চিত হওয়া তথ্য ছাড়া এ সংক্রান্ত অন্য কোনো বিবরণ (যেমন আপিলের প্রস্তুতি, অভিযুক্তদের আইনজীবীর মন্তব্য বা তাদের পরিবারের প্রতিক্রিয়া) গণমাধ্যমের কাছে পাওয়া যায়নি।
আইনি পরবর্তী ধাপ
জানাগেছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না; ফলে তারা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রাখেন। থানায় দাখিল করা অভিযোগ, তদন্তের রিপোর্ট ও পেশকৃত প্রমাণাদি পর্যবেক্ষণ করে কোনো উচ্চ পর্যায়ের আপিল হলে বিষয়টি তৎক্ষণাৎ আদালতে বিচারাধীন হবে।
| আইটেম | উল্লেখ |
|---|---|
| ঘটনা তারিখ | ২৯ এপ্রিল ২০১৯ (ভোর) |
| রায় প্রদানের দিন | ১৩ আগস্ট ২০২৬ |
| উদ্ধারকৃত ফেনসিডিল | ১০ বোতল |
| আসামী | সিরাজ খাঁ, হারুন অর রশিদ |
খুলনার আদালত-প্রকৃত সিদ্ধান্ত ও রায়ের কপি সম্পর্কে এখনো পূর্ণভাবে প্রকাশিত বিবরণ আসে নি। মাদকদ্রব্য তদারকি ও কোর্ট কার্যক্রম ট্র্যাক করার ক্ষেত্রে স্থানীয় নাগরিকদের আগ্রহ রয়েছে। পরবর্তী আপডেট আসলে তা অনুসরণ করে রিপোর্ট করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি সহযোগিতা: পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য ভিত্তিক অভিযান এবং আদালতের নির্দেশিত কঠোর শাস্তি—এখানেই মাদক-মুক্ত রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা জরুরি থাকবে।
এই মামলার তদন্ত-প্রক্রিয়া, আদালত কার্যক্রম এবং স্থানীয় প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য মিললে আমরা সেটিও প্রতিবেদন করব।