ভারতের কলকাতা শহরের নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার পরিচিত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত এবং তাঁর পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে দেবাশীষের স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী সন্তানও রয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং পরিবারের সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
পরিবার ও কুষ্টিয়ার বন্ধুবান্ধবের শোক
স্থানীয় সূত্র জানায়, দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া রাজারহাট অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। নিহত শ্বশুর আকরাম আলীর বাড়ি থানাপাড়া এলাকায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিবারটি অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ভারতের বিভিন্ন শহরে অবস্থান করছিল। প্রথমে তারা চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরে কলকাতা আসেন।
দেবাশীষ কুষ্টিয়ার স্থানীয় সংবাদপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তিনি আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন-এ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি এবং কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অগ্নিকাণ্ড ও উদ্ধারকার্যের প্রাথমিক চিত্র
ঘটনাটি হয়েছে ওই ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত আবাসিক হোটেল ট্র্যাক করে। খবর পাওয়া পর্যন্ত জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডটি মঙ্গলবার রাত বারোটা থেকে দু'টার দিকে লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদ সূত্র অনুযায়ী ওই ভবনটিতে একাধিক আবাসিক হোটেল ছিল এবং অগ্নিকাণ্ডে অন্তত নয়জন নিহত ও বহু আহত হয়েছে; এছাড়া প্রায় আশি জনকে উদ্ধার করা হয়েছে—তবে এই সংখ্যাসূচক তথ্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বিবৃতিতে স্পষ্ট হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু দেবাশীষ, তার স্ত্রী ও শিশু সন্তান এবং শ্বশুর—চারজনই চিকিৎসা চলাকালীন প্রাণ হারান বলে পরিবার থেকে খবর পাওয়া গেছে।
নিহতদের তালিকা
| নাম | সম্পর্ক | বয়স (সূত্র অনুযায়ী) |
|---|---|---|
| দেবাশীষ দত্ত | সংবাদিক | ৪০ |
| আফসানা শারমীন | স্ত্রী | ২৫ |
| স্বর্ণশীষ দত্ত | সন্তান | ৩ |
| আকরাম আলী | শ্বশুর | ৬৪ |
পরবর্তী করণীয় ও স্থানীয় প্রভাব
নিহতদের পরিবারের কাছে থাকা সংক্ষিপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেবাশীষের এক কন্যাসন্তান (প্রায় আট বছরের) এখন কুষ্টিয়ায় রয়েছেন এবং গৃহস্থালির বাকি সদস্যরা গভীর শোক অনুভব করছেন। স্থানীয় সাংবাদিক বন্ধুবৃন্দ ও পরিচিতজন ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খবরের খোঁজে ব্যস্ত। দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান মৃতদের সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন।
- কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজ শোকাহত ও একযোগে সূত্রসংগ্রহ করছে।
- পরিবারের আইনি ও কুটনৈতিক সহায়তা প্রয়োজন হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পরিচিতরা।
- ভারতে থাকা বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের বিষয়টি কনস্যুলেট কিংবা সংশ্লিষ্ট নিকটস্থ প্রতিনিধি অফিসের কাছে গুরুত্ব পাবে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারটি দ্রুত কুষ্টিয়ায় ফিরার কথা ছিল; রাতে কলকাতা পৌঁছানোর পরই এ মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়।
সূত্র ও দূরবর্তী ব্যবস্থা
এ ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং নিহতদের পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে। ভবিষ্যতে কলকাতা পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসন যদি বিস্তারিত তদন্তের ফল প্রকাশ করে, তখন সেখানে নথিভুক্ত ক্ষুদ্র বিবরণ এবং নিহতের সঠিক পরিচয়সূচক কাগজপত্রের তথ্য পাওয়া যাবে। কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে সাহায্যের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কয়েকজন সংবাদকর্মী।
এ রিপোর্টে ব্যবহার করা তথ্য স্থানীয় সূত্র এবং প্রাথমিক সংবাদসংকলন থেকে নেয়া হয়েছে; ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সংবাদকে প্রতিক্রিয়া হিসেবে পরবর্তী প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।