দুর্ঘটনা ও নিহতদের পরিচয়
ভারতের কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন ছিলেন—সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) এবং শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০)।
পরিবারের ভারত যাত্রা ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ ও তাঁর পরিবার চিকিৎসার জন্য ৩ আগস্ট ভারতে যান। দুই দিন পর দেবাশীষের শ্বশুরও সেখানে যোগ দেন। স্ত্রী ও সন্তানের চিকিৎসার পরে তাঁরা বেঙ্গালুরু থেকে গত ১৭ আগস্ট কলকাতায় এসেছিলেন এবং ওই হোটেলে উঠেছিলেন। রবিবার রাতে—or সংবাদ সূত্রে—হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং সেখানে শিশুসহ মোট নয়জন নিহত হন; তাঁদের মধ্যে চারজনই কুষ্টিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। কুষ্টিয়ার স্থানীয় সূত্রে বলা হয়েছে, তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল আজ বুধবার (১৯ আগস্ট)।
কুষ্টিয়া বাড়িতে শোক ও প্রতিক্রিয়া
নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার দিলীপ দত্তের ছেলে। তিনি স্থানীয় দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেলের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি এবং কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই আশপাশের বাড়ি-প্রতিবেশী, সহকর্মী ও বন্ধুবান্ধব বাড়িতে ভিড় জমান।
"আমার দেবা একটু পরই বাড়িতে আসবে। এত দেরি করছে কেন? রাতে বলেছিল, ব্যাগ গোছাচ্ছে। সকালেই রওনা দেবে বাড়ির উদ্দেশে।"
উক্ত কথাটি দেবাশীষের মা স্বপ্না দত্তের কান্নাজড়িত কণ্ঠ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। পরিবারের লোকজন এখনও শোকের মধ্যে এবং সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে তাঁরা মানসিকভাবে বিহ্বল।
নিহতদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তালিকা
- দেবাশীষ দত্ত — কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক।
- আফসানা শারমীন — দেবাশীষের স্ত্রী, বয়স ২৭।
- শর্ণশীষ দত্ত — তাদের পুত্র, বয়স ৩।
- আকরাম হোসেন — দেবাশীষের শ্বশুর, বয়স ৬০।
প্রবাসে ভ্রমণ ও পরিবারের বর্তমান অবস্থা
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার কারণে বেঙ্গালুরুতে ছিলেন দেবাশীষ ও তাঁর পরিবার। মেডিক্যাল ট্রিটমেন্টের পর তারা গত ১৭ আগস্ট কলকাতায় ফিরে আসেন এবং হোটেলে উঠেন। ওই হোটেলেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং নিহতদের সনাক্তকরণ ও পরিচয় বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এবং হাইকমিশনের মাধ্যমে পরিবারকে জানানো হয়। ঘটনার পর থেকে কুষ্টিয়ায় নিহতদের বাড়ি—আড়ুয়াপাড়া—এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ে।
| নিহত | সম্পর্ক | বয়স (প্রকাশিত) |
|---|---|---|
| দেবাশীষ দত্ত | স্বামী, সাংবাদিক | ৩৯ |
| আফসানা শারমীন | স্ত্রী | ২৭ |
| শর্ণশীষ দত্ত | পুত্র | ৩ |
| আকরাম হোসেন | শ্বশুর | ৬০ |
স্থানীয় প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার প্রসার
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, প্রতিবেশী ও পরিচিতরা কুষ্টিয়ায় নিহত পরিবারের বাড়িতে এসে সমবেদনা জানিয়েছেন। শিশুসন্তান ফাহিমা (৮) বাড়িতেই রয়েছেন—সংবাদ সূত্রে জানানো হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতদের রূপ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে শোকপ্রকাশ ছড়িয়েছে। অনেকে দ্রুতভাবে নিহত সদস্যদের দেশের বাইরে সৎকার ও মরদেহ ফেরার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া থেকে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া শেষে পরিবারের পাশে দাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে স্থানীয় নেতারা জানিয়েছে। কুষ্টিয়া থেকে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ ও নিহতদের দেশে তৎক্ষণাৎ আনার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।