সংক্ষিপ্ত ঘটনা
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লেগে ভারতের সময় বুধবার ভোররাতে অন্তত নয়জন প্রাণ হারিয়েছে; নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে জানায় স্থানীয় সূত্র। এই হতাহত তালিকায় রয়েছেন কুষ্টিয়ার পরিচিত সংবাদকর্মী দেবাশীষ দত্ত (বয়স ৪০), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাদের সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত (প্রায় ২—৩) এবং দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)।
কেন সেখানে ছিলেন তারা
স্থানীয় পত্রিকা ও কুষ্টিয়া সম্পর্কিত সূত্রে জানা যায়, দেবাশীষ এবং তার পরিবার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কয়েক দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন। দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান নিহতদের পরিবার সম্পর্কে নিশ্চিতকরণ দেন এবং জানান:
“চিকিৎসা নিতে তারা ৩ আগস্ট ভারতে গিয়েছিলেন।”
প্রতিবেদনগুলো বলছে, তারা বেঙ্গালুরুতেও চিকিৎসা নিয়েছিলেন এবং ঘটনার আগের দিনই বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় এসে স্থানীয় একজন আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ঐ রাতেই হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় তাদের জীবনহানি ঘটে।
কুষ্টিয়া—সংবাদপেশার প্রতিক্রিয়া
কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে এই খবরে গভীর শোক নেমে এসেছে। সহকর্মীরা দেবাশীষকে একজন মেধাবী ও পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে স্মরণ করছেন। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব ও স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা তাঁর অকাল প্রস্থানকে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতাকে একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- নিহত: দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শিম্মিন, স্বর্ণশীষ দত্ত, মো. আকরাম আলী
- ঘটনাস্থল: নিউ মার্কেট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, কলকাতা
- তারিখ ও সময়: অনানুষ্ঠানিক সূত্রে ভারতের রাত আনুমানিক পৌনে ২টায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে
স্থানীয় ও কনসুলারি ব্যবস্থাপনা
ঘটনার পর দিল্লি ও কলকাতার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেয়। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে বলে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপ-হাইকমিশন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং স্থানীয়ভাবে আহত কিছু বাংলাদেশিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী করণীয় ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়ার চাহিদা
এই ধরনের দূর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাড়ানো, দ্রুত কনসুলারি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা স্থানীয়ভাবে জোরালোভাবে দাবি করা হচ্ছে যাতে দ্রুততর তথ্য আদানপ্রদান ও মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ হয়।
স্থানীয়ভাবে এখন মূল চাহিদা হলো মরদেহের পরিচয়পত্র, কাগজপত্রের যাচাই, পরিবারের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছানো এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর মাধ্যমে শোকাহত পরিবারকে সহায়তা করা।
| নাম | সম্পর্ক | বয়স (প্রায়) |
|---|---|---|
| দেবাশীষ দত্ত | নিজে — সাংবাদিক | ৪০ |
| আফসানা শিম্মিন | স্ত্রী | ২৫ |
| স্বর্ণশীষ দত্ত | সন্তান | প্রায় ২ |
| মো. আকরাম আলী | শ্বশুর | ৬৪ |
কুষ্টিয়ার পাঠক এবং সাংবাদিক মহল এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। পরবর্তী সময়ে নিহতদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা, তাদের শেষকৃত্য ও পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কুষ্টিয়ার স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো কি উদ্যোগ নেবে—এ বিষয়গুলোও নজর রাখার দাবি উঠছে।