কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের টিক্কি পাড়া, মুন্সি পাড়া ও বারো মাইল এলাকায় Wednesday (২৬ আগস্ট) বিকেলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে জেলা প্রশাসন তৎপরতা দেখিয়েছে। জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান নির্দেশনায় ওই বালুমহালগুলোতে লাল পতাকা পুঁতে সীমানা নির্ণয় করে সব ধরনের উত্তোলন, লোড-আনলোড ও পরিবহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অপনির্বাচিত উত্তোলনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহিরচর ইউনিয়নের তড়িয়া মহালে বালু উত্তোলনের জন্য সরকারিভাবে কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। তবুও একটি অনৈক্যপূর্ণ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বালু উত্তোলন ও লোড-আনলোডের কাজ চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর বুধবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মাইকিং করে স্থানটিতে উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং লাল পতাকা দিয়ে সীমা চিহ্নিত করা হয়।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার সরেজমিনে উপস্থিত থেকে অভিযান পরিচালনা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, লাল পতাকা চিহ্নিত এলাকায় যেকোনো ধরনের বালু উত্তোলন, লোড বা আনলোড এখন থেকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন গুরুত্বপুর্ণ এই উদ্যোগ?
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অননুমোদিত বালু উত্তোলন নদীর ঢাললা ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে নদীর ভেদভূমি ক্ষয়, বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাসভূমির ক্ষতি হতে পারে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রশাসনের এই তড়িত পদক্ষেপ নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
- অভিযান পরিচালনার সময়: ২৬ আগস্ট, বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা
- অভিযানকারীরা: উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিরুল আরাফাত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার
- চিহ্নিত স্থান: টিক্কি পাড়া, মুন্সি পাড়া, বারো মাইল (তড়িয়া মহাল)
অবৈধ উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতা স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেললেও এই কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখতে নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশাসনিক পরবর্তী পদক্ষেপ
অঞ্চলের মাটি-বালু নিয়ে অনিয়ন্ত্রিত চাষাবাদ বা বাণিজ্যিক অপব্যবহার বন্ধ থাকলে কৃষি জমি, সড়ক ও জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। প্রশাসনের এক প্রত্যক্ষ কর্মচক্রের মাধ্যমে প্রথম ধাপ নেওয়া হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভূমি ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সমন্বয়, নিয়মিত চেকপোস্ট ও আইনী পদক্ষেপ ছাড়া পূর্ণ সাফল্য পাওয়া যাবে না।
জেলা প্রশাসন যেসব স্থানে লাল পতাকা পুঁতে সীমানা নির্ধারণ করেছে, সেগুলোর তালিকা নিচে টেবিলে সংক্ষেপে দেয়া হলো:
| ইউনিয়ন | চিহ্নিত এলাকা | অবস্থা |
|---|---|---|
| বাহিরচর | টিক্কি পাড়া | লাল পতাকা; উত্তোলন নিষিদ্ধ |
| বাহিরচর | মুন্সি পাড়া | লাল পতাকা; উত্তোলন নিষিদ্ধ |
| বাহিরচর | বারো মাইল (তড়িয়া মহাল) | লাল পতাকা; উত্তোলন নিষিদ্ধ |
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, যারা লাল পতাকা চিহ্নিত এলাকায় অভিযান চালাবে বা পরিবহন করবে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী চ্যালেঞ্জ
অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে একঝাঁক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেই তা স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে না। দীর্ঘমেয়াদে সতর্ক নজরদারি, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ, এবং প্রয়োজনে চুড়ান্ত আইনগত ব্যবস্থা—এই তিনটি উপাদান সমানভাবে প্রয়োজন। প্রশাসনের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা অবশ্যই জরুরি হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করে বলেছেন, এটি নদী ও পরিবেশ রক্ষার দিক থেকে ইতিবাচক উদ্যোগ। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, ভবিষ্যতেও অনৈতিক কার্যক্রম চললে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।