কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাছ ধরার জাল ও মাদক জব্দ করেছে; জব্দকৃত সামগ্রীর মোট আনুমানিক সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।
অভিযানের সময় ও স্থান
বিজিবি জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ আগস্ট রাতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি ইউনিয়নের চরচিলমারী বিওপির দায়িত্বশীল এলাকার পদ্মা নদীতে স্পেশাল নৌ অভিযান চালানো হয়। একই দিন রাত নাড়াল শেষে মেহেরপুরের গাংনী সিমান্তের রংমহল বিওপির এলাকায় পৃথকভাবে অভিযান চালানো হয় এবং সেখানে মালিকবিহীন অবস্থায় গাঁজা পাওয়া যায়।
জব্দকৃত মালামালের বিবরণ
কুষ্টিয়া-দৌলতপুর অভিযানে দেশীয় নৌকা ও স্পিডবোট ব্যবহার করে তল্লাশি চালিয়ে বড়পরিমাণে ভারতীয় তৈরির কারেন্ট জাল ও চায়না জাল উদ্ধার করা হয়। পরিমাপ করে দেখা যায়:
| আইটেম | পরিমাণ | আনুমানিক সিজার মূল্য |
|---|---|---|
| ভারতীয় কারেন্ট জাল | ৫,০৫০ কেজি | ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা (দুই ধরনের জালের মোট) |
| চায়না জাল | ৪,৮৪৫ কেজি | |
| গাঁজা | ১৫ কেজি | ৫২ হাজার ৫০০ টাকা |
জাল দুটির জন্য যে আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে; পরে নিয়ম অনুযায়ী কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে জালগুলোকে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অবস্থা ও বাস্তব প্রতিক্রিয়া
মেট্রোপলিটন পরিচয়ে নয়, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া এসব জাল ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে—বিজিবির উদ্ধার ও সেভিংয়ের কর্মকাণ্ড সীমান্ত চোরাচালান ও অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধে লক্ষ্যভিত্তিক বলে তারা জানিয়েছে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বলেন—
“সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ রোধ এবং অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ প্রতিহত করতে আমাদের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত জাল ও মাদকদ্রব্যের মূল্যায়ন, নথিভুক্তকরণ ও সর্বশেষ ধ্বংস কার্যক্রম আগের রাতেই সম্পন্ন করা হয়। কুষ্টিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে জাল পরিমাপ নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রাসঙ্গিক বিবেচনা
শহর-গ্রামের মৎস্যভিত্তিক পরিবারের জন্য অবৈধ কারেন্ট জাল ও অন্যান্য ক্ষতিকর জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান একদিকে পরিবেশ ও মৎস্যজীবনের নিরাপত্তার পক্ষপাতী, অন্যদিকে সীমান্ত দিয়ে প্রবল পরিমাণ জাল প্রবেশ নামমাত্র প্রোফিটিং ব্যবসার নির্দেশও বহন করে। স্থানীয় মৎস্য অধিদফতর দীর্ঘকাল ধরে কারেন্ট জাল নিষিদ্ধ থাকার কারণে নিয়মসিদ্ধভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জেলেদের জীবিকা নিরাপদ রাখতে কাজ করছে।
- বিজিবি বলছে—নিয়মিত সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
- জাল ধ্বংস করলেও এর উৎস ও সাপ্লাইচেইন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন।
- স্থানীয় মৎস্যজীবী ও পরিবেশবিদদের উদ্বেগ—কারেন্ট জাল ব্যবহারে নদীর মাছের বংশনাশ ঘটছে, যা বাড়তি মনিটরিং দাবি করে।
পরবর্তী করণীয়
বিজিবি জানিয়েছে তারা সীমান্ত পিলার এলাকা, নদী মোহনা ও সড়কপথ ধরে নজরদারি জোরদার করবে। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য-জাল সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ না করলে পুনরায় একই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি হওয়া কঠিন হবে না। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন এই অভিযানের তথ্যাদি পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছে।