কুষ্টিয়ায় চলমান লোডশেডিং ও তার প্রভাবকে কেন্দ্র করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ায় জেলা পুলিশের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের আবেদন জানানো হয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সময় কুষ্টিয়া থানায় দুইটি পৃথক চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে—একটি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) কুষ্টিয়া কার্যালয় থেকে এবং অপরটি কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে।
নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বৃহস্পতিবার জানান, ‘‘দুটি চিঠি বুধবার সকালে দেখেছি। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। পুলিশ এরইমধ্যে নজরদারি করছে।’’ পুলিশি কার্যালয় এসব চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছে। জেলা পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশনা চলছে এবং গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করার অনুরোধ করা হয়েছে।
‘দুটি চিঠি বুধবার সকালে দেখেছি। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। পুলিশ এরইমধ্যে নজরদারি করছে।’
চিঠিতে কী দাবি ছিল
ওজোপাডিকো কুষ্টিয়া কার্যালয় থেকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বল্পতার কারণে সারাদেশে ব্যাপকভাবে লোডশেডিং চলছে এবং এর ফলে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। চিঠিতে আশঙ্কা করা হয়েছে যে, সংকটময় পরিস্থিতি কেউ অপব্যবহার করে কেপিআইভুক্ত (KD) স্থাপনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক স্থাপনায় নাশকতা বা বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এ কারণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন এবং নজরদারি জোরদার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে কুষ্টিয়াসহ নানা অঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে, যা শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, শিল্প ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে এবং জনমানসে ক্ষোভ বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘‘লোডশেডিংয়ের কারণে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
| প্রেরক | চিঠি জমা হওয়ার দিন | মূল দাবি |
|---|---|---|
| ওজোপাডিকো, কুষ্টিয়া | সোম ও মঙ্গলবারের মধ্যে (চিঠি ভিতরে বলে) | নিরাপত্তা জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পুলিশ মোতায়েন |
| কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি | সোম ও মঙ্গলবারের মধ্যে (চিঠি ভিতরে বলে) | নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও জনশান্তি রক্ষা, নিরাপত্তা বাড়ানো |
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও প্রভাব
চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসায়ীদেরিল কার্যক্রম, কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কাজ পরিচালনায় দেরি ও বিঘ্ন ঘটছে। এসব কারণে জনমনে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে, যা যদি উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিশে যায় তাহলে পরিস্থিতি অবাঞ্ছিত মোড় নিতে পারে — এমনই সতর্কতা চালানো হয়েছে।
- চিঠি দুটি জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
- পুলিশ ইতোমধ্যে নজরদারি জোরদার করেছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে স্থাপনাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে।
- বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
আপাতত জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণ বাড়ার পরেও পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তাদের চিঠিতে সুনির্দিষ্টভাবে আরও কার্যকর মনিটরিং ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মধ্যে সমন্বয় বাড়লে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে নিরাপত্তা সূত্রগুলো মনে করছে।
এই ঘটনায় জেলার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। আগামী সময়ে লোডশেডিং পরিস্থিতি ও প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেমন বাস্তব প্রয়োগ হচ্ছে, সেটি জেলাবাসীর নজর থাকবে।