ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০) ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদসূত্র ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গাজী মাহবুব রহমান ফুলোদিত করেন যে, দেবাশীষ ছিলেন দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি এবং দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক।
ঘটনার সময় ও পরিস্থিতি
ঘটনাটি বুধবার ভোরে ঘটে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট দেবাশীষ সপরিবারে ভারতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষ করে তারা বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতা ফিরে এসে ওই আবাসিক হোটেলে রাতাতিন ছিলেন। বুধবার সকালে বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু গভীর রাতে হোটেলের এক অংশে হঠাৎ আগুন লেগে তা দ্রুত ভবনের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষাতিগ্রস্ত হয়।
দমকল ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে হোটেলের ভিতর থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া ব্যক্তিদের একজনেরও প্রাণ বাঁচানো যায়নি। ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী এই অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহতদের পরিচয় ও পরিবারগত সংবাদ
নিহত দেবাশীষ দত্তের সঙ্গে হোটেলে থাকা এবং প্রাণ হারানো অন্যরা হলেন—তাঁর স্ত্রী আফসানা সিমমিন (২৫), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪)। দেবাশীষের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া রাজারহাট এলাকায় এবং শ্বশুর আকরাম আলীর বাড়ি থানাপাড়া এলাকায় বলে জানা গেছে। দেবাশীষের এক আট বছর বয়সী মেয়ে ও মা-বাবা দেশে রয়েছেন।
"নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশের নাগরিক এবং একজন ভারতীয় রয়েছেন।"
এই উদ্ধৃতিটি কলকাতা ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য মহীশূরের বরাত দেওয়া। কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে এবং নিহত পরিবারে গভীর শোক নেমে এসেছে।
কুষ্টিয়ায় প্রতিক্রিয়া ও প্রস্তুতি
গণমাধ্যমকর্মীরা এবং স্থানীয় পরিচিতরা দেবাশীষের পরিবারের বাড়িতে ছুটে গিয়ে শোকাবহ দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে এবং হতাহত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা ও দাফনপূত্রী সম্পন্নের তৎপরতা সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করার সংবাদ পাওয়া গেছে।
- স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনোদের শোক সম্মেলন ও সমর্থন
- মরদেহ ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিকতা ও কাগজপত্র সংগ্রহ
- পরিবারের আর্থিক ও মানসিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনা
কেমন ঘটতে পারে এমন বিপর্যয় — প্রাথমিক ধারণা
প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, হোটেলের অভ্যন্তরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর ঘন ধোঁয়া সৃষ্টি হওয়ার ফলে অনেকে শ্বাসরোধে নিহত হতে পারেন। উদ্ধারকাজ ও হাসপাতালের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও মৃত্যুর সঠিক কারণ চিহ্নিত হবে। ভারতীয় সংবাদসংস্থাগুলোও অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্তাধীন বলেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | নিউমার্কেট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, কলকাতা |
| প্রধান নিহত | দেবাশীষ দত্ত (৪০), কুষ্টিয়া প্রতিনিধি |
| পরিবারের নিহত | আফসানা সিমমিন (২৫), স্বর্ণশীষ দত্ত (৩), আকরাম আলী (৬৪) |
| মোট মৃত | ৯ (প্রাথমিকভাবে রিপোর্ট) |
কুষ্টিয়া থেকে ভারত যাওয়া ব্যক্তি ও পরিবারের নিরাপত্তা, প্রবাসে চিকিৎসা-সহায়তা এবং হোটেল নিরাপত্তার নিয়মাবলি নিয়ে স্থানীয় সমাজে প্রশ্ন উঠছে। সাংবাদিক রোগী-পরিবারের চিকিৎসাসেবা, ভ্রমণ পরিকল্পনা ও নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাভাবিকভাবেই পরিচিতেরা।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার ও কুষ্টিয়ার সামাজিক ও পেশাদার মহল একজন সহকর্মীকে হারানোতে বিধ্বস্ত। ঘটনার আরও তথ্য-নির্ভুলতা ও মরদেহ হস্তান্তর সম্পর্কিত কার্যক্রম সম্পর্কে পরবর্তী প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হবে।