কলকাতার শিখা-ইন হোটেলে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ শনিবার রাতে কুষ্টিয়ার বাড়িতে পৌঁছেছে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশে পৌঁছানো ও শেষকৃত্যের প্রস্তুতি
স্থানীয় সংবাদে বলা হয়েছে, সকাল-বেলা প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ শেষে মরদেহগুলো বেনাপোল সীমান্ত হয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। রাতে মরদেহ পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ি ও শ্মশানের আশপাশে শোকাজ্ঞাপন ও আর্তনাদের দৃশ্য দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটি এলাকার মানুষকে শোকাহত করেছে।
পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। কুষ্টিয়া পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দেবাশীষের শ্বশুর ও স্ত্রী আফসানা শারমিনকে দাফন করা হবে এবং দেবাশীষ ও তাদের পুত্রকে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কিভাবে ঘটেছিল ঘটনা—সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট
প্রসূত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেবাশীষ দত্ত চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আফসানা শারমিন, শিশু পুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী। চিকিৎসাসেবা শেষে বেঙ্গালুরু থেকে কেনাকাটায় যাওয়ার জন্য কলকাতা গিয়েছিলেন তারা। সেখানে থাকতেন হোটেল শিখা-ইনে। মঙ্গলবার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং এই পরিবারসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়; এদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিলো ৭ জন।
মঙ্গলবারের সেই অগ্নিকাণ্ড কুষ্টিয়ার জন্য গভীর ষ্ট্রোক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিহত দেবাশীষ স্থানীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল নাইন-এ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়ি ছিলেন—সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যমে তার রিপোর্টিং পরিচিত ছিল।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও শোক
মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছানোর সময় আশপাশে থাকা লোকজন ও আত্মীয়স্বজন দমিয়ে ওঠার মতো কষ্ট জানান। সংবাদ সূত্রে বলা হয়েছে, মরদেহগুলো পৌঁছলে চারপাশ আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আহত পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় মানবিক সহায়তা ও শোকসভা আয়োজনের বিষয়ে পরিবার সময় মতো সিদ্ধান্ত নেবে—পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে সবকিছু ধর্মীয় রীতি ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে সম্পন্ন করা হবে।
পরবর্তী করণীয় ও পাঠককে দরকারী তথ্য
- মরদেহ নেওয়ার ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সময় স্থানীয় প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হবে।
- শোকপ্রকাশে অংশগ্রহণ ও শ্রদ্ধা জানানোর ক্ষেত্রে পরিবারের ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।
- সংবাদ-সংযোগ বা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন হলে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন ও পৌরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
এমন দু:খজনক ঘটনায় স্থানীয় সেবা সংস্থাগুলোকে পরিবারের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে বাংলাদেশি নাগরিকের বিদেশে চিকিৎসা ও অবস্থানকালীন নিরাপত্তা নিয়ে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্থানীয় সম্প্রদায়ে উঠে এসেছে।
নিহতদের পরিচয় ও শেষকৃত্যের স্থান (সংক্ষিপ্ত তালিকা)
| নাম | সম্পর্ক | শেষকৃত্যের স্থান |
|---|---|---|
| দেবাশীষ দত্ত | সাংবাদিক | কুষ্টিয়া মহাশ্মশান |
| স্বর্ণশীষ দত্ত | পুত্র | কুষ্টিয়া মহাশ্মশান |
| আফসানা শারমিন | স্ত্রী | কুষ্টিয়া পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থান |
| আকরাম আলী | শ্বশুর | কুষ্টিয়া পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থান |
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কোর্টিনাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সবকিছু ধর্মীয় রীতি মেনে সম্পন্ন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষ গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই—এমন মানবিক ও স্থানীয় গুরুত্ব সম্পন্ন সংবাদ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা ও সহমর্মিতার আহ্বানও বয়ে আনে।