ভারতের কলকাতা-র মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত হোটেল শিখা ইন-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়া বাংলাদেশের সাতজনের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯) ও তাঁর পরিবারের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো সেখানে রাখা হয়েছিল।
এবার কী হবে — দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসেস
কুষ্টিয়ার পরিবারের তথ্য ও কলকাতায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট কর্মকর্তাদের তদারকিতে দুই দেশের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পরিবারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে সকল কাগজপত্র整 করার পর আজ শুক্রবার বিকেল নাগাদ মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে। কলকাতার বাংলাদেশ উপ হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মো. ওমর ফারুক আকন্দ ও দূতাবাসের কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দেখভাল করছেন।
পরিবারের সিদ্ধান্ত ও সৎকার
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই পরিবারের চার সদস্যকে দুটি আলাদা ধর্মীয় রীতিতে দাহ ও দাফন করা হবে। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত এবং তাঁর শিশুপুত্রের সৎকার করা হবে, আর তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরের দাফন সম্পন্ন হবে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন নিহতদের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে—প্রত্যেক নিহতের জন্য ২৫,০০০ টাকা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আজ শুক্রবার সকালে পরিবারের কাছে অর্থ হস্তান্তর করা হবে বলে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন নিশ্চিত করেছেন।
“আমাদের মরদেহ দেখানো হয়েছে। আমরা থানায় যাচ্ছি। আরও কিছু কাগজপত্রের কাজ আছে। আজ শুক্রবার দুপুর নাগাদ সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশের উদ্দেশে মরদেহ পাঠানো হবে।”
এমন মন্তব্য করেছেন দেবাশীষের আত্মীয় ও ভারতের মালদহের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দী।
নিহতদের পরিচিতি
আগ্নিকাণ্ডে মৃতদের মধ্যে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪) রয়েছেন। অন্যান্য নিহতরা হলেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার আহমেদ বাবু (৪০), সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার।
| নাম | নিবাস/অবস্থান | বয়স (বছর) |
|---|---|---|
| দেবাশীষ দত্ত | কুষ্টিয়া (আড়ুয়াপাড়া) | ৩৯ |
| আফসানা শারমীন | — | ২৭ |
| স্বর্ণশীষ দত্ত (সন্তান) | — | ৩ |
| আকরাম হোসেন | — | ৬৪ |
| আহমেদ বাবু | সাভার, ঢাকা | ৪০ |
| আলিমুজ্জামান সাজু | কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা | ৪৫ |
| রেবতী সরকার | — | — |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সহায়তা
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের অনুরোধের পরে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মরদেহ পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে শ্মশানে সৎকারের পরিবর্তে বিনা মূল্যে সৎকারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগটির কথা জানিয়েছে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর। জেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা ও প্রেসক্লাবের উদ্যোগ মিলিয়ে পরিবারকে প্রাথমিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
আইনি ব্যবস্থা ও আটক
ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফর এবং আরও দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার আবু জাফর জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে হোটেলের মূল মালিক পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানায়। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ওই হোটেলে আগুন লাগার ফলে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়; নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ছিলেন।
পাঠক জেনে রাখুন
- ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং মরদেহগুলো কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখার পর দুই দেশের ফরমাল প্রক্রিয়া চলছে।
- কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন প্রত্যেক নিহতের জন্য ২৫,০০০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে; প্রয়োজনে প্রেসক্লাব ও স্থানীয় সংগঠন অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে।
- পরিবার ও আত্মীয়রা ভারতের সংশ্লিষ্ট থানায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র整 করার পর মরদেহ দেশে আনার কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা কুষ্টিয়া জেলার স্থানীয় সংবাদজগতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে; ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে দ্রুত সুলভ ও সম্মানজনকভাবে তাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে আনার জন্য জেলা প্রশাসন ও কুটনৈতিক দফতর কাজ করে যাচ্ছে। আমরা পরিবারের যন্ত্রণা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি অনুসরণ করে আপডেট জানাতে থাকবে।