কলকাতা শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় মঙ্গলবার ভোরে ঘটে যাওয়া হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাতে কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়া তাদের বাড়িতে পৌঁছেছে। পুরো এলাকায় শোক ও নীরবতা বিরাজ করছে।
মরদেহ আনার প্রক্রিয়া ও গ্রামের দৃশ্য
কোলকাতার প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শেষে বিকাল সাড়ে ৫টায় বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে মরদেহগুলি দেশে পাঠানো হয়। পরে রাতে সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স এসে দেবাশীষের আড়ুয়াপাড়ার বাড়ির সামনে থামে। স্বজন, প্রতিবেশী ও কয়েকজন সহকর্মী গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহতদের পরিচয় ও কবরস্থান
নিহতদের মধ্যে ছিলেন:
- দেবাশীষ দত্ত (৩৯) — কুষ্টিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে বেসরকারি টিভি চ্যানেল নাইনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন; এছাড়া স্থানীয় দৈনিক আজকের আলোপত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
- আফসানা শারমিন (২৭) — দেবাশীষের স্ত্রী।
- স্বর্ণাশীষ দত্ত (৩) — তাদের কনিষ্ঠ পুত্র।
- আকরাম আলী (৬০) — আফসানার বাবা।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দেবাশীষ ও তাঁর ছেলে শহরের নিমতলা মহাশ্মশানে সমাহিত করা হবে। দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা ও তাঁর শ্বশুর আকরাম আলীকে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পরিবারের অবস্থান ও প্রেক্ষাপট
পরিবারের আরো একজন—সাত বছর বয়সী মেয়ে মাহিমা—দাদা-দাদির সঙ্গে রয়ে গিয়েছিলেন। তথ্য অনুযায়ী, দেবাশীষ ৩ আগস্ট চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু যাওয়ার আগে মেয়ে মাহিমাকে দাদা-দাদির কাছে রেখে যান। অন্যদিকে, আফসানার বাবা আকরাম আলী ৬ আগস্ট কলকাতায় যান জামাই ফিরোজের চিকিৎসার জন্য; ফিরোজ দেশে ফেরলেও সে অবস্থায় না ফিরে থাকার কারণে আকরাম আলী সেখানে থেকে যান। পরে দেবাশীষ, আফসানা ও সন্তান স্বর্ণাশীষ যোগ দেন।
কলকাতার অগ্নিকাণ্ড সংক্ষিপ্ত বিবরণ
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ২টার দিকে নিউ মার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনে মোট নয়জন মারা যায়; নিহতদের মধ্যে দেবাশীষ, আফসানা, তাদের ছেলে ও আফসানার পিতা রয়েছেন।
অন্য নিহতদের মরদেহও দেশে পৌঁছেছে
একই ঘটনায় আরো কয়েকজন বাংলাদেশির মরদেহও দেশে আনা হয়েছে। ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের ব্যবসায়ী আহমেদ বাবু এবং সাতক্ষীরার বাসিন্দা আলীমুজ্জামান সাজুর মরদেহ বেনাপোল ও ভোমরা সীমান্ত দিয়ে শনিবার দেশে পাঠানো হয়েছে। তবে কলকাতায় থাকা স্বজনরা একই দিন নিমতলা মহাশ্মশানে তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকারের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন; তাঁর মরদেহ এখনও দেশে নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
| নাম | বয়স | সম্পর্ক | সমাধিস্থল/কবরস্থান |
|---|---|---|---|
| দেবাশীষ দত্ত | ৩৯ | সাংবাদিক (কুষ্টিয়া প্রতিনিধি; ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক) | নিমতলা মহাশ্মশান |
| স্বর্ণাশীষ দত্ত | ৩ | পুত্র | নিমতলা মহাশ্মশান |
| আফসানা শারমিন | ২৭ | স্ত্রী | পৌর কবরস্থান |
| আকরাম আলী | ৬০ | শ্বশুর | পৌর কবরস্থান |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্ন
মরদেহ পৌঁছানোর সময় উপস্থিত কয়েকজন সহকর্মী ও প্রতিবেশী সংবাদকর্মীদের কাছে বলেছিলেন যে দেবাশীষ ছিলেন এক নিবেদিত সংবাদকর্মী, স্থানীয় গণমাধ্যমে নিয়মিত রিপোর্টিং করতেন। দুর্ঘটনার পর বাড়িতে সমবেদনা জানাতে স্থানীয় Jonogon উপস্থিত হন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও অব্যাহত চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশ্নও উঠছে—কেন এমন অগ্নিকাণ্ড ঘটল, ভ্রমণকালে বাংলাদেশি নাগরিকদের সেবা কতটা সুরক্ষিত ছিল এবং বিদেশে চিকিৎসা-ভ্রমণে গাইডলাইন যথেষ্ট কি না—এসব নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।
সমাপনী কথা
ঘটনাস্থল থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা মরদেহ কেবল একটি পরিবারকে নয়, কুষ্টিয়ার সমাজকে শোকাহত করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সহকর্মীরা বলছেন, দেবাশীষের মতো স্থানীয় সাংবাদিকরা মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরে—শহরের সাংবাদিক সমাজও এখন এই ক্ষতির শোক বয়ে নিয়ে চলতে বাধ্য। পুলিশ ও কনসুলেট পর্যায় থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেলে পাঠককে অবহিত করা হবে।
সংবাদ: কুষ্টিয়া থেকে, সাবরিনা হক স্টাইলে