কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় অবৈধভাবে নকল সিগারেট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি ভাড়া গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও প্রস্তুতকরণ সরঞ্জাম জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন ও দৌলতপুর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের সময়ে পরিস্থিতি ও জব্দকৃত মালামাল
উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের ওই ভাড়া গোডাউন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেটের প্রায় ২০ লাখ শলাকা এবং সেগুলো তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে অভিমত করা হচ্ছে।
অভিযানটি সকাল নয়—দুপুরে চালানো হলেও গোডাউনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অভিযানের খোঁজ পেয়ে পালিয়ে যান। পরে তদন্তকারীরা গোডাউন তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ নকল পণ্য ও উৎপাদন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেন।
কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বক্তব্য
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশ। অভিযানের পরে তিনি জানান, এখানে ডার্বি, নেভি ও রয়েল ব্র্যান্ড নামে পরিচিত সিগারেটের নকল প্যাকেট তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হতো—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই চালানো হয় অভিযান।
“কারখানাটিতে অবৈধভাবে নকল সিগারেট তৈরি করে বাজারজাত করার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুই কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট ও তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশকে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।”
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেছেন, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে সিগারেট ও তৈরির যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
গোডাউনের বিষয়ে ঝাড়ফেনকে কেন্দ্র করে বিবরণ
জব্দকৃত গোডাউনের মালিক হাবিব মাস্টার জানান, তিনি ওই ভাড়া গোডাউন মাসিক ভাড়ায় কয়েকজনকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, গোডাউনের ভাড়াটিয়া হিসেবে পরিচিত দুই ব্যক্তি—জয়রামপুর এলাকার শাকিল এবং বৈদ্যনাথতলা এলাকার লিওন হোসেন—এর কাছে তিনি জায়গাটি ভাড়া দিয়ে ছিলেন এবং মাসিক ভাড়া ছিল ৪০ হাজার টাকা।
হাবিব মাস্টার আরও বলেন, এর আগে র্যাব ও কাস্টমস’র অভিযানেও একই গোডাউন সিলগালা করা হয়েছিল; পরবর্তীতে সেটি আবার চালু হয়েছে।
জেলা ও স্থানীয় প্রভাব
নকল তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুধু আইনগত বিষয় নয়—এটি জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব রক্ষণেও বড় ফাঁক সৃষ্টি করে। নকল সিগারেটে মান নিয়ন্ত্রণ না থাকায় স্বাস্থ্যের গুরুতর ঝুঁকি বাড়ে, সেই সঙ্গে সরকারের হিসাববহির্ভূত আয়ও বাড়ে না। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এবং গ্রাহকদের জন্যও এটি প্রতারণার শামিল।
আগামী পদক্ষেপ ও অনুসন্ধান
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে তদন্ত ও অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনা শেষে মামলার নথি প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং জব্দ মালামালের উৎস, সরবরাহ চেইন ও বাজারজাতকারীদের খোঁজে তদন্ত অব্যাহত থাকবে—এমনটাই জানায় তদন্তকারীরা।
- অবৈধভাবে জব্দকৃত সিগারেট: প্রায় ২০ লাখ শলাকা
- জব্দকৃত সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য: প্রায় ২ কোটি টাকা
- ভাড়া নগদ: গোডাউনের মাসিক ভাড়া ৪০ হাজার টাকা (মালিকের বিবরণ)
| উপাদান | বিবরণ |
|---|---|
| অবস্থান | গড়বাড়িয়া, সদর ইউনিয়ন (দৌলতপুর) |
| জব্দকৃত পণ্য | বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট ও তৈরি সরঞ্জাম |
| অভিযানকারী | উপজেলা প্রশাসন (ভ্রাম্যমাণ আদালত) ও দৌলতপুর থানা পুলিশ |
অভিযান ও তদন্তের ফলাফল স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে প্রকাশ করবে। এখন পর্যন্ত অভিযানের সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের গ্রেপ্তার বা তৎক্ষণিক ধারা প্রযোজ্য করার তথ্য প্রদান করা হয়নি; তবে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে থানা থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এই ধরনের অবৈধ কারবার বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় নাগরিকেরা বলছেন—এমন অভিযান নিয়মিতভাবে হলে অবাধে নকল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি রোধ করা সম্ভব হবে।