কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার হাজতখানায় সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে একজন আসামি জোর করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন—তিনি হলেন উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকার ইসলাম শেখের ছেলে ইকবাল শেখ গারো (৪০)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাকে জিলাপীতলা এলাকা থেকে ছয়টি মুরগি চুরির অভিযোগে আটক করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে থানায় রাখা হয়েছিল।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
থানায় থাকা অবস্থায় ইকবাল প্রথমে নিজের পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে নিয়ে থানার হাজতখানায় থাকা লোহার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে গলায় ফাঁস দেন। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও তিনি ফের একই রকম চেষ্টা করেন। হাজতে থাকা অপর এক আসামি বিষয়টি দেখে চিৎকার শুরু করলে সেগুনে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হাজতখানায় এসে তাকে উদ্ধার করেন। থানার সিসিটিভি ফুটেজে এই ঘটনা ধরা পড়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
“হাজতখানায় লুঙ্গি ছিঁড়ে ইকবাল আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশের তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে,”
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন এই কথাগুলো বলেন। ঘটনা তদন্ত করে পুলিশ আত্মহত্যার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা করেছে এবং দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সিসিটিভি ও উপস্থিতি
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হাজতখানায় এক আসামি ঘুমিয়ে ছিলেন; তিনি জেগে ওঠার পর চিৎকার করেন এবং এরপরই পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশি তৎপরতা এবং হাজতখানায় উপস্থিত লোকজনের প্রতিক্রিয়া—সব কিছুই ফুটেজে দেখা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনগত কাণ্ড
পুলিশ জানায়, ইকবালকে জেলার জিলাপীতলা এলাকা থেকে ছেঁকে ছয়টি মুরগি চোরনের সময় আটক করা হয়। সেখানে তাকে থানায় হেফাজত রাখা হয়েছিল। আইনগতভাবে গ্রেপ্তারকৃত অসুস্থ বা ঝুঁকিপূর্ণ আসামিদের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব—এই ঘটনার পর সেই তত্ত্বাবধান কতটা কার্যকর ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
- ঘটনার সময়: সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টা
- আসামির নাম ও বয়স: ইকবাল শেখ গারো, ৪০
- অভিযোগ: ছয়টি মুরগি চুরি
- পুলিশি পদক্ষেপ: উদ্ধার, আত্মহত্যার চেষ্টা সংক্রান্ত মামলা, আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ
হাজতখানার নিরাপত্তা ও তদারকি প্রশ্নে
অভিযুক্তের পারিবারিক বা মানসিক ইতিবৃত্ত সম্পর্কে সংবাদসঙ্গে পুলিশ কোনো তথ্য দেয়নি। তবে হাজতে থাকা অবস্থায় কোনো আসামি তৎক্ষণাত নজর দিতে না পারলে জরুরি স্বাস্থ্য-সহায়তা বা অতিরিক্ত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা পুনরায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আদালত-কারাগারে প্রেরণের আগে হাজতে এমন ঘটনা ঘটলে কী ধরনের রিপোর্ট রাখা হয় এবং তা কাদের কাছে দেওয়া হয়—এসব প্রশ্নেরই প্রাসঙ্গিকতা আছে।
সময়রেখা (সংক্ষিপ্ত)
| সময় | ঘটনাবলি |
|---|---|
| রাত/ভোর (গ্রেপ্তারের সময়) | জিলাপীতলা এলাকা থেকে ইকবালকে ধরানো হয় (ছয় মুরগি চুরির অভিযোগ) |
| সকাল সাড়ে ৬টা | হাজতখানায় লুঙ্গি ছিঁড়ে গ্রিলের সঙ্গে বাঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা |
| সিসিটিভি ফুটেজ | ঘুমিয়ে থাকা অপর আসামির জাগরণ ও চিৎকার দেখা যায়; পুলিশ এসে উদ্ধার করে |
| দুপুর | আত্মহত্যার চেষ্টা সংক্রান্ত মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ |
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নবোধ
হাজতে থাকা আসামি আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তা শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির ঘটনা নয়—এটি পুলিশি তত্ত্বাবধানে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা ও মানবিক শর্তাদি সম্পর্কে জনঅন্তরালে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন: হাজতে থাকার সময় নির্দিষ্ট সময় অন্তর তল্লাশি হয় কি না, কিংবা সিসিটিভি নজরদারি বাস্তবে কতটা কার্যকরী তা কুষ্টিয়ার অন্যান্য থানাগুলোর জন্য নির্দেশনামূলক হতে পারে।
এই ঘটনার পর কুমারখালী থানা কর্তৃপক্ষ কি ধরনের অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালাবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।