রংপুর শহরে একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা এক সহপাঠীকে ‘বর্ণভিত্তিক’ গালির অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার দুপুরে প্রশাসনিক উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সকালে ক্লাস বর্জন করে তারা নগরীর প্রধান সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল ব্যবস্থা কিছুটা বিঘ্নিত হয়। প্রতিবাদ শেষে ছাত্রীরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিকেল পর্যন্ত অবস্থান করে।
অনাস্থা ও অভিযোগের সূত্রপাত
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর দায়িত্বে থাকা একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তা এক শিক্ষার্থীকে ‘কালো ছেলে’ বলে অসম্মান করেন। এ দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষুব্ধতা দেখা দেয় এবং দুপুর দুইটার দিকে তারা বিক্ষোভে নামেন।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান দেন; তাঁদের ধ্বনি ছিল কড়া ও সংগঠিত। তারা ক্লাস-রুম ত্যাগ করে মিছিল করে জেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর ওপর দিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দিকে যায় এবং সেখানে প্রবেশ করে অবস্থান নেয়।
“তুমি কে আমি কে, কালো ছেলে কালো ছেলে,” “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”
শিক্ষার্থীদের দাবি ও আঘাতের বিষয়গুলি
বিক্ষোভকারীরা কর্তৃপক্ষের কাছে মোট পাঁচ দফা দাবি জানায়। মূল দাবি‑সমূহ তারা সরাসরি মঞ্চে উপস্থাপন করেন এবং পরে পুলিশ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস পেলে তারা অবস্থান থেকে সরে যান। প্রধান দাবিগুলো ছিল:
- স্কুলে বর্তমানে চালু করা দুই শিফট বাতিল করে এক শিফটে পরিবর্তন করা।
- প্রশাসনভিত্তিক যে “সিন্ডিকেট” বা ক্ষমতার ভিত্তিক কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তা বিলুপ্ত করা।
- ক্যানটিনে মানসম্মত খাবার ও সহনীয় মূল্য নিশ্চিত করা।
- স্কুলের ওয়েবসাইট নিয়মিত আপডেট রাখা।
- শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
| দাবি | সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা |
|---|---|
| শিফট পরিবর্তন | দুই শিফট বাতিল করে এক শিফট চালু করার দাবি। |
| প্রশাসনিক শুদ্ধি | অভিভাবক ও শিক্ষকদের মত উপেক্ষা করে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা। |
| ক্যানটিন ও ওয়েবসাইট | খাবারের মান ও স্বচ্ছতা বাড়াতে ক্যানটিন সংস্কার; ওয়েবসাইট আপডেট। |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের সঙ্গে সংলাপ
বিক্ষোভ চলাকালে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় পরিবহণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন। পরে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা তাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
রংপুর জেলা পুলিশের কার্যনির্বাহী অফিসার বা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদ সংগ্রহের সময় জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি এবং পরে মুঠোফোনেও কল রিসিভ করা হয়নি।
সম্প্রসারণ: বিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ রয়েছে যে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজেকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে তিনি দুর্ব্যবহার করেন। এ ছাড়া শিক্ষক-অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির অভিযোগও উঠেছে—যা শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানের স্বভাবের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করছে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, যদি তাদের দাবি দ্রুত বিবেচনা না করা হয় তারা আরও তীব্র কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি যদি দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে খতিয়ে না দেখা হয়, তা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের কারণ হতে পারে।
শেষ কথা
স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের মধ্যকার এই বিবাদ শুধু একাধিক ব্যক্তিগত অভিযোগের সীমায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তোলেছে। ভবিষ্যতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়ার কথা স্থানীয়দের মধ্যে উচ্চস্বরে বলা হচ্ছে।