বাংলাদেশ দৌলতপুর কুষ্টিয়া (60)

দৌলতপুরে জোড়া লাগা যমজ কন্যা শিশুরা ঢাকায় চিকিৎসাধীন থেকে মারা গেছেন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বুক ও পেট থেকে জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম নেওয়া দুই কন্যা শিশু—জয়নব ও উম্মে কুলসুম—ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার সময় মারা গেছেন। পরিবার স্তব্ধ; চিকিৎসা ও অপারেশনের জন্য আগে সরকারি সহায়তার ঘোষণা আসে।

দৌলতপুরে জোড়া লাগা যমজ কন্যা শিশুরা ঢাকায় চিকিৎসাধীন থেকে মারা গেছেন
©অলংকরণ সাবরিনা হক / we-news.com

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিলগাতুয়া গ্রামে বুক ও পেট থেকে অবিচ্ছেদ্যভাবে জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম নেওয়া দুই কন্যা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

প্রাথমিক পরিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও চিকিৎসাসংক্রান্ত পরিসর

শিশুগুলো—জয়নব ও উম্মে কুলসুম—জন্ম দেন সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা নামের একজন মহিলা, যিনি দৌলতপুরের প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। শিশু দুটির জন্ম ঘটেছিল ৪ মে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। জন্মের পর থেকেই তাদের বুক থেকে পেট পর্যন্ত সংযুক্ত থাকার ফলে দুই শিশুকে আলাদা করার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও অপারেশনের প্রয়োজনীয়তা ছিল।

অর্থের দায় ও সরকারি হস্তক্ষেপ

শুরুতে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যয়ভার পরিবার বহন করতে পারছিল না; আর্থিক সীমাবদ্ধতা শিশুগুলোকে প্রয়োজন মতো দ্রুত সার্জারি করাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পরে বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে এবং পরে সরকার সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করার সিদ্ধান্ত নেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পরিবারের সদস্য জাহিদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করে এই ব্যবস্থা জানানো হয়। তার কথায়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

ঢাকায় চিকিৎসা ও অবস্থা অবনতি

শিবিরবিহীন অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পরে শিশু দুটির প্রাথমিক চিকিৎসা চলছিল। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী বুধবার দুপুরে তাদের শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি ঘটে, পরে আইসিইউতে নেয়া হয়। সন্ধ্যার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’জনই মারা যান। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

  • জন্মের তারিখ: ৪ মে (বিএসএমএমইউতে)
  • চিকিৎসা শুরু: ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করা হয়
  • মৃত্যু: ১২ আগস্ট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের ভূমিকা

স্থানীয় প্রশাসন এবং হাসপাতালের পর্যবেক্ষণে শুরু থেকেই এই ধরনের সংকটজনক অবস্থার মোকাবেলায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন ছিল। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের সক্ষমতা সীমাবদ্ধ থাকায় ব্যাপক জনগণিক সহমর্মিতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন পড়ে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহনের প্রতিশ্রুতি আসে, যা পরে প্রয়োগ করা হয়।

স্থানীয়রা ও গ্রামের মানুষজন এই ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন—আশা, উদ্বেগ ও দুঃখ। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে জটিল সার্জারি ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বহন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

চিকিৎসা ও অপারেশনের বাস্তবতা

চিকিৎসকরা আগে থেকেই জানিয়েছিলেন যে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শারীরিকভাবে সংযুক্ত শিশুদের আলাদা করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে, তবে এর জন্য বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বড় পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল। সামাজিক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত জটিলতা, পাশাপাশি অপারেশনের ঝুঁকি ও পরে সহায়ক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সবই বিষয়টি শক্ত করে তুলেছে।

বিষয়তথ্য
জন্মস্থানবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
নিবাসবিলগাতুয়া, প্রাগপুর ইউনিয়ন, দৌলতপুর
চিকিৎসা নেওয়া হাসপাতালঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
মৃত্যুর সময়১২ আগস্ট, সন্ধ্যা

পরবর্তী করণীয় ও পরিবারকে সহায়তা

এ ধরনের ঘটনাগুলো গৃহীত হলে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থেকে মানসিক, আর্থিক ও প্রকৃত সহায়তা দেয়ার প্রয়োজন পরে। শিশুদের চিকিৎসা ব্যয়ভার নেওয়া সরকারি ঘোষণা ছিল ইতিবাচক; তবে ফলশ্রুতিটা পরিবার ও এলাকার জন্য গভীর দুঃখ ও শোকময়।

ঘটনার নিশ্চিতকরণ ও হাসপাতালের চিকিৎসা-ঘটনাক্রম নিয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহের বক্তব্য সূত্রে এই প্রতিবেদনে তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। পরিবার পক্ষ থেকে ঘটনা সম্পর্কে আর বিস্তারিত জানিয়েছেন জাহিদ হোসেন।

শাসন, স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা বিভাগের সহযোগিতা ও স্থানীয় পর্যায়ে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের সংকটসমূহ দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা যায়—এমন প্রশ্ন এখন স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার দাবি জাগিয়েছে।

সাবরিনা হক
সাবরিনা এআই বাংলাদেশ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি সাবরিনা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

60কুষ্টিয়া

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো কুষ্টিয়া, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব