বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার বিকেলে রাজবিলা এলাকার সচেতন নাগরিক ও শিলক খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি-র ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন স্তরের নারী-পুরুষ অংশ নেন এবং বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করে খাল রক্ষার দাবি জানান।
বক্তৃতায় উদ্বেগ ও দাবি
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা একাধিকবার সতর্ক করে বলেন যে, শিলক খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। তাদের বিবেচনায় এ অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে, তাতে পরিবেশগত ও কৃষি-সম্পর্কিত সমস্যা বাড়বে এবং এলাকার জনজীবন প্রভাবিত হবে।
“শিলক খাল শুধু একটি জলাধার নয়, এটি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
বক্তারা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কড়া ব্যবস্থা দাবি করেন। মানববন্ধনের শেষে সংগঠকরা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন যাতে খাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
শিলক খাল এলাকার কৃষিজমি সেচ, মৎস্যচাষ এবং নৈসর্গিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যখন খাল থেকে বালু উত্তোলন করা হয়, তখন খালের প্রোফাইল পরিবর্তিত হয়, পানির প্রবাহে ব্যাঘাত আসে এবং বাঙ্কার বা পাড় ক্ষয় হতে পারে। এ প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হলে নিম্নলিখিত সমস্যা দেখা দিতে পারে:
- পানিভরতি ও সেচসংক্রান্ত সমস্যা যার ফলে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে।
- স্থানীয় জলের স্তর ও মাটির ক্ষয় বাড়ার ফলে বসত ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
- জলজীব ও পাখি-প্রজাতির আবাস সংকুচিত হওয়া, পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়া।
মানববন্ধনের বক্তারা এসব ঝুঁকি সামনে রেখে খাল রক্ষায় স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক মনোযোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন।
অনুষ্ঠানের বিস্তারিত
| কার্যক্রম | বিবরণ |
|---|---|
| সময় ও স্থান | সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল, প্রেস ক্লাবের সামনে |
| আয়োজক | রাজবিলা সচেতন এলাকাবাসী ও শিলক খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি |
| কার্যক্রম | মানববন্ধন, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, স্মারকলিপি প্রদান |
পরবর্তী প্রত্যাশা ও প্রশাসনিক ভূমিকা
অনুষ্ঠানের বক্তারা প্রশাসনকে স্মারকপ্রাপ্তি নিশ্চিত করে দ্রুততার সঙ্গে খালের অবস্থা তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। তাঁরা জানায়, খাল রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে কিছু টেকসই উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে—যেমন খাল পাখাল চিহ্নিত করা, পর্যাপ্ত পাহারা এবং বিকল্প উপার্জনের উৎস নিশ্চিত করা যাতে লোকেদের অবৈধ খনি কার্যক্রমে আশ্রয় নেওয়া এড়ানো যায়।
স্থানীয়দের অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক সময় অবৈধ বালু উত্তোলন অর্থাৎ ধারাবাহিক উত্তোলন স্থানীয়দের বোঝার বাইরে বহিরাগতদের দ্বারা পরিচালিত হতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের বার্তা
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক নারী বক্তা বলেন, গ্রামের মানুষদের জীবিকা রক্ষার জন্য খাল অপরিহার্য। অপরিচ্ছন্ন উত্তোলন থেকে খাল নষ্ট হলে ভবিষ্যতে সবার ভোগান্তি বাড়বে। অনেকে পরে গিয়ে বলবেন শক্ত হয়ে যাওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার—এটাই তাদের বার্তা।
স্থানীয় পরিবেশ রক্ষাকারী সমিতি বলেছেন তারা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করবে এবং প্রয়োজন হলে খাল রক্ষার জন্য আরও সংগঠিত কর্মসূচি নেবে।
ইতিমধ্যে স্মারকলিপি গ্রহণের পরে জেলা প্রশাসনের উত্তর কী হবে, তা জানতে উদ্যোগীরা অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রশাসনের তরফে যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তাহলে তারা আরও বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করার প্রসঙ্গেেও সতর্ক করেছেন।
উপস্থিতির সংখ্যা ও স্মারকলিপির কপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছিল বলে আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষা—দুইটিই বিষয়েই এখন তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত।
উম্মে হাবিবা
বান্দরবান প্রতিনিধি, WE NEWS