শরীয়তপুর জেলা শহরে অবস্থিত হলিহার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাময়িক বন্ধ নির্দেশনা অমান্য করে চিকিৎসাসেবা ধারাবাহিকভাবে চলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকার কারণ দেখিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে ৩ মে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা আরোপ ও কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা—রোগী ও অস্ত্রোপচার
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ভিতরে রোগী ও তাদের স্বজনদের উপস্থিতি ছিল। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কাজ চলছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারও চলছে বলে দেখা গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বন্ধাদেশ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও সিভিল সার্জনের সুবিধাভোগ
হাসপাতাল পরিচালনায় যুক্ত ওমর খান জানিয়েছেন, মোবাইল কোর্ট তাদের বিরুদ্ধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে এবং সাময়িক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নথি整করার পর সিভিল সার্জনের কাছে তা দেখানো হলে সিভিল সার্জন কার্যক্রম পুনরায় চালু করার অনুমতি দিয়েছেন—এমন দাবি করেছেন তিনি।
“মোবাইল কোর্ট এসে আমাদের ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে এবং সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এরপর আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করে সিভিল সার্জনের কাছে যাই। সিভিল সার্জন কাগজপত্র দেখে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দিয়েছেন।” — ওমর খান, হলিহার্ট পরিচালনা
তবে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যে তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর পুনরায় চালু করার অনুমতি তার নেই। সিভিল সার্জন বলেন, তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেননি এবং যদি কেউ মোবাইল কোর্টের আদেশ অমান্য করে কাজ চালিয়ে যায়, বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে... তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হলে সেটি পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া আমার নেই। আমি কোনো হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দিইনি।” — ডা. মো. রেহান উদ্দিন, জেলা সিভিল সার্জন
সংক্ষেপে ঘটনার প্রধান দিকসমূহ
- মোবাইল কোর্ট ৩ মে তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায়।
- প্রতিষ্ঠানগুলো কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকার কারণে জরিমানা ও সাময়িক বন্ধাদেশ পেয়েছিল।
- ডা. এমএ দাউদ জেনারেল হাসপাতাল ও ডক্টরস পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার আদেশ মেনেছে, কিন্তু হলিহার্ট হাসপাতাল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে—এই অভিযোগ উঠেছে।
| প্রতিষ্ঠান | মোবাইল কোর্টের সিদ্ধান্ত | বর্তমান দাবি/অবস্থা |
|---|---|---|
| ডা. এমএ দাউদ জেনারেল হাসপাতাল | জরিমানা ও সাময়িকভাবে বন্ধ | আদেশ মেনে কার্যক্রম বন্ধ |
| ডক্টরস পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার | জরিমানা ও সাময়িকভাবে বন্ধ | আদেশ মেনে কার্যক্রম বন্ধ |
| হলিহার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার | জরিমানা ও সাময়িকভাবে বন্ধ | অভিযোগ: কার্যক্রম চালু রেখে চিকিৎসা চলছে; সিভিল সার্জন অনুমতি দেননি |
হাসপাতাল পরিচালনা থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ—যে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে তা রোগীদের নিরাপত্তা ও সেবা মানে প্রশ্ন তুলছে। জেলা সিভিল সার্জনের বক্তব্য অনুযায়ী মোবাইল কোর্টের আদেশ অমান্য হলে ভবিষ্যতে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা ও রোগীরা জানতে চেয়েছেন, অস্থায়ী বন্ধাদেশ আর বাস্তবে হল না কেন এবং স্বাস্থ্য সেবার মান ও লাইসেন্স বিষয়ক শৃঙ্খলা কবে স্থির হবে।
এ সমস্যার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্পষ্ট যোগাযোগ ও কার্যকর তদারকি জরুরি—তাই মনে করেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। এই লেখার সময় পর্যন্ত জেলা প্রশাসন বা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্য কোনো পদমর্যাদার প্রতিনিধির মন্তব্য পাওয়া যায়নি।