সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের থিরপাড়া এলাকায় হুগলী নদীর ওপর নির্মিত কংক্রিটের ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি বাহ্যিকভাবে সম্পন্ন মনে হলেও কার্যত অনেকের ব্যবহারযোগ্য নয়। স্থানীয়রা বলছেন, সেতুর এক পাশে ১০৫ মিটার সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুতে উঠার জন্য তারা বাঁশের তৈরি একটি মই বা সাঁকো ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
কেন দাঁড়িয়েছে প্রকল্প?
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে এই সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজের জন্য মোট ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। মূল সেতুর কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। কিন্তু সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ আটকে আছে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায়।
স্থানীয়দের কষ্ট ও তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সরাসরি সেতুকে ব্যবহার করতে না পারায় মানুষদের দৈনন্দিন জীবনে বেশ কিছু অসুবিধা দেখা দিয়েছে। বৃদ্ধ-প্রতিধিক, নারীরা এবং স্কুলগামী শিশুরা বিশেষভাবে বিপন্ন। কৃষকরা জানিয়েছে, সংযোগ সড়ক না থাকায় উৎপাদিত ফসল বাজারে পাঠাতে দীর্ঘ অতিরিক্ত পথ ঘোরতে হয়, যার ফলে সময় ও খরচ বাড়ে।
“ব্রিজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের কপাল খোলা হয়নি। অসুস্থ রোগী নিয়ে এই মই বাওয়া অসম্ভব।” — স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম
এলজিইডির নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, জমি নিয়ে জটিলতার কারণেই সংযোগ সড়কটি করা যাচ্ছে না। শরীয়তপুরের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা শুরুতে মৌখিকভাবে জমি দেবেন বলে এক মত হয়েছিলেও পরে অনেকে ক্ষতিপূরণ না পেলে কাজ করতে দিচ্ছেন না। প্রকল্পের বাজেটে জমি কিনে নেওয়ার জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি বলেও তারা উল্লেখ করেন।
পরিণতি ও স্থানীয় প্রভাব
সেতুটি নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল থিরপাড়া ও আশপাশের এলাকার জনপরিবহন ও পণ্যবহনের সুবিধা নিশ্চিত করা—এটি আলাদা কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ করবে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় ওই লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না। স্থানীয়দের কথায়, প্রতিদিন বৃষ্টিতে বাঁশের মই পিচ্ছিল হয়ে পড়ে গিয়ে মানুষ আহত হচ্ছে; ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে যেতে সমস্যা হয়; এবং রোগীর দ্রুত পরিবহনে বিলম্ব হচ্ছে।
- প্রকল্পে বরাদ্দ: ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা (সেতু ও সংযোগ সড়ক)
- সেতুর দৈর্ঘ্য: ৯০ মিটার
- অপূরণীয় সংযোগ সড়ক: ১০৫ মিটার (পশ্চিম দিকে)
বাজেট ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা
এলজিইডি প্রতিবেদনে স্পষ্ট যে, প্রকল্প তৈরির সময় জমি অধিগ্রহণের খরচ বাজেটে রাখা হয়নি—এই ত্রুটিই বর্তমানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে এগিয়ে আসা সরকারের প্রতিনিধি পরে আমরা জমি না পেলে কাজ করবো না বলে উল্লেখ করেছেন। এতে করে সেতু থাকলেও সেতুর কার্যকর ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে।
| বিষয় | স্ট্যাটাস/তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্প কার্যাদেশ | ২০২১ সালের নভেম্বর |
| মূল সেতুর কাজ সমাপ্ত | ২০২৪ সালের জুন |
| অপূরণীয় সংযোগ সড়ক দূরত্ব | ১০৫ মিটার (পশ্চিম) |
স্থানীয়রা দাবি করছেন, দ্রুত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে জমি অধিগ্রহণ করা হলে সেতুর কার্যকর ব্যবহার শুরু হবে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এই অতিরিক্ত ঝুঁকি দূর হবে। প্রশাসনও জানিয়েছেন যে, যদি আর্থিক ও আইনগত বিষয়গুলো মীমাংসা করা যায়, তাহলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব।
এই ধরনের ত্রুটি কেবল একক প্রকল্পের ব্যর্থতা নয়, বরং জনরহিত কাজে অর্থ ও পরিকল্পনার সঠিকতা নিশ্চিত করার গুরুত্বকেও সামনে নিয়ে আসে। শরীয়তপুরের এই এলাকার নিত্যপ্রয়োজন ও অর্থনৈতিক গতিসীলতা বজায় রাখতে দ্রুত সমাধান না হলে স্থানীয় মানুষের ক্ষতি চলতেই থাকবে।