শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে নিজ চেম্বারে দীর্ঘদিন ধরে চোখের রোগী দেখছিলেন এক ব্যক্তি—কিন্তু তিনি কোনো চিকিৎসকসংবিধিমূলে স্বীকৃত নন। সোমবার দুপুরে ওই জঙ্গল বাজারস্থ জন্নাত মেডিকেল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত মো. জাফর নামে ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে এবং বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের অন্তর্ভুক্ত অপরাধে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে।
অভিযোগ ও অভিযানের সূত্রপাত
স্থানীয়রা জানায়, জঙ্গল বাজারের মুক্তিযোদ্ধা ভবনের দোতলায় চালু জন্নাত মেডিকেল সেন্টারে জাফর নিয়মিত রোগীদের চক্ষু চিকিৎসা করতেন এবং ব্যবস্থাপত্র দিতেন। তবে তিনি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো যোগ্যতা, নিবন্ধন বা বৈধ লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান।
অপপ্রচারের প্রমাণ ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য
অভিযানের সময় স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতিতে জাফরকে রোগী দেখার সময় এবং ব্যবস্থাপত্র দেন দেখেই অভিযানের সদস্যরা অভিযোগের সত্যতা পান। গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এস মহাম্মাদুল্লাহ অপরাধের কথা নিশ্চিত করে জানান, জাফর বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত চিকিৎসক নন এবং তাঁর কাছে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নেই।
"অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন অনুযায়ী তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে,"
ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান অভিযানের পর এই আদেশ দেন এবং পরে জাফরকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
চেম্বারের নাম, পরিচিতি ও কৌশল
সূত্রে বলা হয়, জাফর শরীয়তপুর সদর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ব্যবস্থাপত্রে অন্য নাম—‘ডা. হামিদুর রহমান’ ব্যবহার করতেন এবং রোগীরাও তাঁকে ওই নামে চিনতেন। দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে চক্ষু রোগী দেখানোর অভিযোগ থেকে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
- অভিযোগ: স্বীকৃত চিকিৎসক নয় তা সত্ত্বেও রোগী দেখানো ও ব্যবস্থাপত্র প্রদান।
- অভিযানকারীরা: উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ও থানা পুলিশ।
- আদেশ: বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন অনুযায়ী তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল
ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই দ্রুত অভিযানই স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা ও আশ্বাস জাগিয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনা কীভাবে দীর্ঘদিন চলতে পারে, কেন স্থানীয় পর্যায়ে যথাযথ তদারকি করা হয়নি—এমন প্রশ্নও উঠেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সাধারণ রোগীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদানের বিষয়ে গোপন বা প্রকাশ্য অভিযোগ জানাতে বলেছে।
| ইভেন্ট | তথ্য |
|---|---|
| চেম্বারের নাম | জন্নাত মেডিকেল সেন্টার, জঙ্গল বাজার, গোসাইরহাট |
| গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি | মো. জাফর (নামপ্রচলিত: ডা. হামিদুর রহমান) |
| আইনগত ব্যবস্থা | বিভিন্ন ধারায় বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন অনুসারে তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড |
| প্রেরিত কারাগার | শরীয়তপুর জেলা কারাগার |
অপরাধ ও প্রতারণার এই ধরনজনিত ঘটনা ঝুঁকি তৈরি করে রোগীর স্বাস্থ্য এবং সঠিক চিকিৎসা প্রক্রিয়ার উপর। বিশেষত চোখের চিকিৎসায় ভুল পরামর্শ বা ভুল ওষুধ নির্ভুল প্রয়োগ না হলে অন্ধত্বসহ স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা তাদের বক্তব্যে জানান, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন এবং অনুমোদিত চিকিৎসকের পরিচয় নিন—এমন বার্তা তুলে দেওয়া হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই নিষ্ক্রিয় মনোভাবস্থানিক অভিযান ভবিষ্যতে অনান্য অবৈধ চিকিৎসাসেবা প্রদাতাদের বিরুদ্ধেও এক সতর্কবাণী হিসেবে কাজ করবে বলে অভিমত স্থানীয় প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। ঘটনাটির তদন্ত ও পরবর্তী আইনী প্রসেস চলবে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নেয়ার ক্ষেত্রে রোগীরা প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স, চিকিৎসকের নাম ও অনুমোদন যাচাই করতে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।