শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌর এলাকায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে একটি কালো কুকুর একাধিক স্থান থেকে মানুষকে কামড়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সবাইকে তৎক্ষণাৎ ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয় এবং জরুরি চিকিৎসা ও টিকা দেওয়া হচ্ছে।
আহত ও তাদের অবস্থান
আহতদের মধ্যে নয়জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন—ফাতেমা (৬০), জয়নাল (৫৩), রাহাত (১৪), জীবন (৫), আফোয়ানা (২), সুফিয়া (৭৫), জারা মনি (১২), হৃদয় (২৮) ও আবজাল (৩১)। সকলেই ডামুড্যা পৌর এলাকার বাসিন্দা। তাদের সবাইকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং গুরুতর অবস্থার কয়েকজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে।
| নাম | বয়স | ঠিকানা |
|---|---|---|
| ফাতেমা | ৬০ | ডামুড্যা পৌর |
| জয়নাল | ৫৩ | ডামুড্যা পৌর |
| রাহাত | ১৪ | ডামুড্যা পৌর |
| জীবন | ৫ | ডামুড্যা পৌর |
| আফোয়ানা | ২ | ডামুড্যা পৌর |
| সুফিয়া | ৭৫ | ডামুড্যা পৌর |
| জারা মনি | ১২ | ডামুড্যা পৌর |
| হৃদয় | ২৮ | ডামুড্যা পৌর |
| আবজাল | ৩১ | ডামুড্যা পৌর |
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনাস্থলের স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ওই কালো কুকুরটি ঘুরছিল এবং হঠাৎ পথচারী ও এলাকার মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
“কুকুরটি হঠাৎ করে মানুষকে তাড়া করে কামড়াতে শুরু করে। এতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে ছোট শিশু ও বয়স্কদের বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে।” — হৃদয়
আরেক স্থানীয়, হান্নান মিয়া, উপলব্ধি করেছেন যে কুকুরের কামড়ের ফলে গভীর ক্ষত হতে পারে এবং সময়মতো ভ্যাকসিন না নিলে জলাতঙ্কের মত প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি থাকে। স্থানীয়রা দ্রুত কুকুরটিকে শনাক্ত করে নিরাপদে অপসারণ ও আক্রান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যসেবা এবং সতর্কতামূলক নির্দেশনা
ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ্ আলম সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকাল থেকে কুকুরের কামড়ে অন্তত ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সবাইকে প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গুরুতর অবস্থার কয়েকজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
- কী করবেন: কুকুর বা অন্যান্য প্রাণীর কামড় গেলে দ্রুত ক্ষত স্থানে পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন এবং যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নিন।
- কি নয়: ক্ষত আঘাতে নিজে খোঁচা-কাঁচি বা অনুপযুক্ত চিকিৎসা প্রয়োগ করবেন না; এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
- সচেতনতা: শিশু, বয়স্ক ও রোগপ্রবণদের অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। আক্রান্ত এলাকায় জনসমাগম সীমিত করুন।
চিকিৎসকেরা বলছেন, কুকুরের কামড়ের ক্ষত ছোট হলেও তা অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো টিকা না দিলে জলাতঙ্কের লক্ষণ প্রকাশ পেলে রোগটি প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার, ডোজ অনুযায়ী ভ্যাকসিন প্রদান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা জরুরি।
পরবর্তী করণীয় ও প্রশাসনিক দাবি
স্থানীয় দায়িত্বশীলদের প্রতি বাসিন্দারা কুকুরটি শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। আতাউর খন্দকার নামের একজন স্থানীয় বলেন, এক সঙ্গে এত মানুষ আহত হওয়া উদ্বেগজনক এবং পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা।
অবশ্য এখনও কুকুরটির ধরন, মালিক আছে কি না বা পরে কী হয়েছে—সেসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। আহতদের চিকিৎসা ও টিকাদান অব্যাহত রয়েছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র।