শরীয়তপুরে ছুটি কাটাতে এসে নিজ বাড়িতেই আকস্মিকভাবে মারা গেছেন নড়িয়া সার্কেল অফিসের পুলিশ পরিদর্শক মো. আবির হোসেন। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার ছাপড়া মসজিদ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুই দিনের ছুটি নিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে ছুটি কাটাতে যান মো. আবির। অফিসে ফেরার দিন রোববার। শনিবার দুপুরে বাড়ির ভিতরে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজ চলছিল। লোকগুলোকে দেখতে ছাদে ওঠার পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ ও স্ট্রোক করেন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।
“আমার ভাই বাড়িতে একাই ছিলেন। বাড়িতে বিদ্যুতের কাজ চলছিল। কাজ দেখতে তিনি ছাদে যান। এ সময় একজন মিস্ত্রি বিদ্যুতায়িত হলে তাকে দেখে আমার ভাই সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোক করেন,”
নিহতের এক বোনের কথাবার্তার অংশ হিসেবে পুলিশ প্রতিবেদনে এই বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
অফিসীয় প্রতিক্রিয়া
নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, মো. আবির দুই দিনের ছুটি নিয়ে নিজের বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং আগামীকাল (রোববার) কর্মস্থলে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, “আজ দুপুরে তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। আমরা জানি, তিনি আগে থেকেই স্ট্রোকের রোগী। তার মৃত্যুতে নড়িয়া সার্কেল অফিস গভীরভাবে মর্মাহত। আমরা নিহতের পরিবারের পাশে সর্বদা থাকব।”
নিহতজন সম্পর্কে সংগৃহীত তথ্য
| বিবরণ | দেনা তথ্য |
|---|---|
| নাম | মো. আবির হোসেন |
| পদবী | পুলিশ পরিদর্শক, নড়িয়া সার্কেল অফিস |
| ঠিকানা (জেলা) | ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর গ্রাম |
| ঘটনাস্থল | শরীয়তপুর সদর, ছাপড়া মসজিদ এলাকা |
| ঘটনার সময় | ২২ আগস্ট, দুপুর (স্ট্রোকের পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু) |
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
একজন ব্যবস্থাপনায় থাকা পুলিশের আকস্মিক মৃত্যুর খবর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছুটিতে বাড়িতে থাকা অবস্থায় এমনভাবে প্রয়াত হওয়ায় পরিবারের পাশাপাশি সহকর্মীদেরও মানসিক শক অপরিহার্য। নড়িয়া সার্কেল অফিসের সূত্রে জানা যায়, মৃত অফিসারের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে শোকাচ্ছন্ন এবং জেলা পুলিশের একাংশ তাদের পাশে রয়েছে।
- পরিবার জানিয়েছে: তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন এবং বিদ্যুৎকাজ দেখার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
- কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: তিনি আগেই স্ট্রোকের রোগী ছিলেন—এটি জীবনহানির পেছনে সম্ভবত ভূমিকা রাখে।
- স্থানীয়রা বলছে: দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসা চালানোর পূর্বে তিনি মারা যান।
পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা ও ছুটির সময় পরিচর্যা
পুলিশ বা অন্য কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীদের ছুটির সময় স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, পরিবার-সহকর্মী এবং স্থানীয় স্তরে জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব। শিশু, বৃদ্ধ বা পূর্বরুগী কর্মী থাকলে ছুটি কাটানোর সময়ও তাদের পাশে কেউ থাকলে গুরুতর পরিস্থিতি এড়াতে সুবিধা হয়—এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সেবা ব্যবস্থার একটি নীতিগত বিষয়।
বর্তমানে মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে এবং পরিবারের জানামতে শারীরিক পরীক্ষার অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। নড়িয়া সার্কেল অফিস নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পরবর্তী আইনগত কিংবা প্রশাসনিক অনুসন্ধান সম্পর্কিত কোনো ঘোষণা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পাওয়া যায়নি।