ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের দীর্ঘাংশ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি ২০২০ সালে শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় ২০২১ পেরিয়ে যাবার পরও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। প্রায় ২৭ কিলোমিটার এই মেরুতে অবকাঠামোগত কাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও বরিশালের লাখো মানুষ প্রতিদিনই যানজট, ধুলাবালি, কাদা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন — এমনটি জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
প্রকল্পের বিশদ অবস্থা
এই উন্নয়নকাজটি মোট প্রায় ৮৬৪ কোটি টাকা বাজেটে তিনটি প্যাকেজে ভাগ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজের শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানো হয়েছে। তবুও সড়কের অনেক অংশে কাজ এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
নাগরিক জীবনে প্রতিকূল প্রভাব
সরেজমিনে দেখা গেছে শরীয়তপুর শহর থেকে জাজিরা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন খন্ডে খনন, পিচঝেঁচড়া ও আধাঙ্গা কাজ চলছে। ফলে সাধারণ যাত্রী, কৃষি পণ্যের ট্রাক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত সময় ও অর্থের ক্ষতি বরণ করছেন। নির্মাণস্থলে ধুলো হয়ে আশপাশ এলাকা ছেয়ে যাচ্ছে, বৃষ্টিতে কাদা জমে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।
- প্রতিদিন দীর্ঘজট ও আস্তে গতি: যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
- ধুলো-পলু ও পরিবেশগত সমস্যাসহ স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বৃদ্ধি।
- ভাইরাস ও জরুরি সেবায় সময় নষ্ট হচ্ছে — চিকিৎসা ও শিক্ষা সেবায় প্রভাব পড়তে পারে।
প্রকল্প দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাব্য কারণ
সরকারি প্রকল্পগুলোতে দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকে—সরবরাহ ও ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা, আবহাওয়া, সম্মতিপত্র বা আর্থিক দিকাদিক জটিলতা। এখানে উল্লেখ্য যে, এই কক্ষে নির্দিষ্ট কারণে কী কী বাধা দেখা দিয়েছে—এমন কোনো নতুন তথ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি; তবে সওজ সূত্র নিশ্চিত করেছে কাজটি তিনটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় পার করা হয়েছে।
বাস্তবে স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা
স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে বৃষ্টি হলে মহাসড়কের মাধ্যমিক অংশগুলোতে কাদা জমে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ধীরগতি হয়। পরিবহণ খরচ বাড়ছে, সময়মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে এবং পণ্য পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। রিকশা-লেগুনার মতো ছোট যানগুলোও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে নির্মাণস্থলে আঁকাবাঁকা ও অসম পথের কারণে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্প শুরুর সাল | ২০২০ |
| নির্ধারিত সমাপ্তি | ২০২১ |
| মোট দৈর্ঘ্য | প্রায় ২৭ কিলোমিটার |
| আনুমানিক বাজেট | প্রায় ৮৬৪ কোটি টাকা |
| প্যাকেজ | ৩টি প্যাকেজে বিভক্ত |
প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সম্ভাব্য প্রত্যাশা
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ প্রকল্প পরিচালনা করছে—তবে কাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ব্যবহারকারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা টেকসই সমাধান চাচ্ছেন। প্রশাসনিক উত্তরদায়িত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রতিনিধি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিতভাবে প্রকাশ ও আপডেটের দাবি উঠেছে।
উপকারী প্রস্তাবনা ও সতর্কতা
নিচে কিছু প্রয়োগযোগ্য তথ্য দেওয়া হলো যাতে সাধারণ নাগরিকরা চলাচলের সময় ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারেন—
- যাত্রী ও চালকরা দ্রুতগতিতে নির্মাণস্থলের কাছে না পৌঁছান; বিকল্প রুট ব্যবহার করলে সময় বাঁচতে পারে।
- রাতে নির্মাণস্থলে চলাচলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন; পর্যাপ্ত আলো ও সিগন্যাল ব্যবহার করুন।
- বৃষ্টির আগেই অগ্রিম পরিকল্পনা করে চলাচল করুন; পরিবহন সংস্থাগুলোর সময়সূচি ও রুট পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য নিন।
স্থানীয় প্রশাসন ও সওজ কর্তৃপক্ষে জোর দেওয়া হচ্ছে দ্রুত প্রকল্পের অর্ধসমাপ্ত অংশগুলোর কাজ ত্বরান্বিত করতে এবং বাস্তবিকভাবে ব্যবহারযোগ্য সড়ক উন্মুক্ত রাখার জন্য। তবে এখনকার পরিস্থিতি সার্বিকভাবে দেখলে স্পষ্ট যে, প্রকল্পের দীর্ঘায়িত স্থিতি পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই প্রতিবেদনে উপস্থাপিত সব তথ্য স্থানীয় সূত্র ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রাথমিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে।