অর্থনীতি শরীয়তপুর শরীয়তপুর (15)

দুই দফা বাড়ালেও আটকে আছে ঢাকা–শরীয়তপুর চার লেন, যাত্রী ও এলাকাবাসীর ভোগান্তি বাড়ছে

দুই বার সময় বাড়ানোর পরেও ঢাকা–শরীয়তপুর চার লেন সড়ক প্রকল্পের দু’টি প্যাকেজের কাজ অর্ধেকেরও বেশি বন্ধ থাকায় হাজারো যাত্রী ও চালক বিপদে পড়েছেন। জমি অধিগ্রহণ ও গৃহীত সময়সীমা না মানায় প্রকল্পের সম্পন্নতা অনিশ্চিত।

দুই দফা বাড়ালেও আটকে আছে ঢাকা–শরীয়তপুর চার লেন, যাত্রী ও এলাকাবাসীর ভোগান্তি বাড়ছে
©অলংকরণ নাজনীন সুলতানা / we-news.com

দুই দফা সময় সীমা বাড়ানোর পরও ঢাকা–শরীয়তপুর চার লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ নানা অংশে থমকে আছে। তিনটি প্যাকেজের মধ্যে দুটির কাজ অর্ধেকেরও বেশি বন্ধ থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকের উপস্থিতি না থাকায় প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও চালক ভোগান্তিতে পড়ছেন।

কেন্দ্রীয় ঝুঁকিতে চলাচল ও মৌসুমী সমস্যা

স্থানীয়রা জানান, প্রকল্প এলাকার পুরো পথজুড়ে ধূলাবালি, অসমাপ্ত সড়ক ও বড় বড় গর্ত থাকার কারণে যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষার সময়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ কাদাপানিতে ভরাট হয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এই অবস্থা জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে শুধু যাত্রী নয়, পণ্যবাহী যান ও স্থানীয় বাণিজ্যকেও প্রভাবিত করছে।

কারিগরি ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন সংবাদিকে বলেন, গত ৩০ জুন দ্বিতীয় দফার বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তৃতীয় দফায় সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। তার ভাষ্য, জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব এবং সময়মতো জমি বুঝে না পেয়ায় কাজ থমকে আছে।

জেলা প্রশাসনের অবস্থান

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, জেলা প্রশাসন যেসব জমি ইতিমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছে, সেসব এলাকার কাজ শেষ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। অবশিষ্ট জমি পরিমাপ ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

প্রকল্পের পরিসংখ্যান

বিবরণ পরিমাণ / অবস্থা
প্রকল্পের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭ কিলোমিটার
প্রকল্প ব্যয় ১,৬৮২ কোটি টাকা
প্যাকেজ সংখ্যা ৩টি (তাদের মধ্যে ২টির কাজ অর্ধেকেরও বেশি বন্ধ)
সম্ভাব্য সমাপ্তির অনুমান বাকি জমি হস্তান্তর করা হলে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব বলে দাবি

স্থানীয়দের নীরব ক্ষোভ ও দৈনন্দিন প্রভাব

প্রকল্প এলাকায় চলাচলকারীরা বলছেন, অসমাপ্ত সড়ক ও বড় গর্তের কারণে গড় গরিব-মানুষের দৈনন্দিন যাত্রা ধীরগতি হলেও তাদের পকেটের ওপরও প্রভাব পড়ছে—ধীরগতির ফলে ভাড়া বেশি সময় ধরে আটকে থাকতে হয়, পণ্যবাহকদের জন্য খরচ ও সরবরাহ বিলম্ব ঘটছে। ছাড়াও স্কুলগামী শিশু, কর্মরত মানুষ ও রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাচ্ছে।

  • যাত্রীদের অভিযোগ: ধুলো-বালি, কাদা ও গর্তের কারণে পরিবহন বিলম্ব ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি।
  • ঠিকাদার দিক থেকে: জমি না পেলে নির্মাণ কাজে বাধা।
  • প্রশাসন: জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় কাজ চলছে; হাতে পাওয়া জমি হলে ঠিকাদার কাজ এগোতে বাধ্য।

প্রকল্প পূর্ণতা না পাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব

এ প্রকল্প সম্পন্ন না হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই ব্যাহত হবে না; স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষি পণ্যের সরবরাহ ও জরুরি পরিষেবায় বিলম্বের কারণে প্রতিদিন নির্মীয়মাণ ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে অবহেলিত সড়ক এলাকাগুলোতে দুর্ঘটনা ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়ে দরজার বাইরে থাকা মানুষের জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

প্রাসঙ্গিক তথ্য ও পরবর্তী করণীয়

সরকারিভাবে আবেদন করে সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেলেও প্রকৃত সম্পন্নতা নির্ভর করছে জমি হস্তান্তর এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো সময় মতো কাজ করার ওপর। স্থানীয় প্রশাসন, সওজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় দ্রুত করতে হবে যাতে বর্ষার কাজে ক্ষয়ক্ষতি কমে এবং যাত্রী জনজীবন স্বাভাবিক হয়।

এখন সময় অনুশাসন ও কার্যকর তদারকির—নতুন সময়সীমা মঞ্জুর হলে সেই অনুযায়ী কাজের ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নাজনীন সুলতানা
নাজনীন এআই অর্থনীতি সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি নাজনীন, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

15শরীয়তপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো শরীয়তপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব