অপরাধ শরীয়তপুর শরীয়তপুর (15)

জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্ত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: তিন জন আহত, একটির ফোন-পরিচয়পত্র ছিনত্ন

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের অফিসের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় তিন সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একজনের মোবাইল ও পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়া ও ধারণকৃত ফুটেজ মুছে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্ত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: তিন জন আহত, একটির ফোন-পরিচয়পত্র ছিনত্ন
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পেশাগত দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিন সংবাদকর্মীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। একজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়া এবং ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগও পশ্চিমে পাওয়া গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও আইনি প্রেক্ষাপট

পুলিশি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসন সম্প্রতি প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেওয়ার কাজ চালায়—এ বিষয়ে প্রেসক্লাব কোনো লিখিত নোটিশ না পেয়ে রবিবার বেলা স্যাঁতসেঁতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। সেই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল গঠন করা হয়। এসময় সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

কেউ বলেন নেতৃত্ব; কেউ বলেন ডাকা-তলা

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান মাদবর প্রথমে একজন সাংবাদিককে আক্রমণ করেন। পরে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন হামলায় জড়িত ছিলেন। আক্রান্ত সাংবাদিকরা স্থানীয়রা উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

নামের তালিকাসংবাদমাধ্যম
বিধান মজুমদার অনিনিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন / জাগো নিউজ / খবরের কাগজ
জাহিদ হাসান রনিদ্য ডেইলি স্টার (শরীয়তপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধি)
বরকত উল্লাহদৈনিক এদিন (শরীয়তপুর প্রতিনিধি)

সংবাদকর্মীদের আক্ষেপ ও দাবি

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, তাঁরা শুধুই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। বিধান মজুমদার অনি বলেন, ওই সময় আচমকাই হামলা করা হয়; পরে কিছু লোকজনের সহযোগিতায় তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে আসতে সক্ষম হন। ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে রাখা ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়।

“ও সাংবাদিক, ওকে ধর।”

দৈনিক এদিনের জেলা প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তাঁর ওপর হুমকি বক্তব্য দেয়া হয় এবং আক্রমণের সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্ব জড়িত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়রা জানায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনের সহযোগিতায় আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রেসক্লাব ও স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো যে কী প্রতিক্রিয়া দেবে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি—কিন্তু সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষার দাবি দ্রুত উঠেছে।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা: আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনও আসে নাই

জেলা প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে মুক্তমত বা মামলা-প্রক্রিয়ার তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি; অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রতিবেদকরা পুলিশ বিভাগ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেছেন, তবে অফিস আদেশ বা মামলা দায়ের সংক্রান্ত নিশ্চিতকরণ এখনও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজের দৃষ্টিকোণ

এই ঘটনার ফলে স্থানীয় সংবাদকর্মীর ওপর ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি হয়েছে—প্রতিবাদী কর্মী হিসেবে সমাজকে তথ্য দেওয়া তাদের পেশাগত কর্তব্য। সাংবাদিকরা বলছেন, প্রশাসনিক এলাকার সীমানা-সংক্রান্ত বিতর্কে পেশাগত কাজকে বাধাগ্রস্ত করা উদ্বেগজনক। তাদের দাবি হচ্ছে, যারা হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

কী ঘটতে পারে — পরবর্তী ধাপ

  • ভুক্তভোগীরা মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
  • স্থানীয় প্রেসক্লাব বা সাংবাদিক সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিকল্পনা করতে পারে।
  • প্রশাসনিকভাবে ঘটনার তদন্ত হলে অনলাইন বা স্থানে থাকা ফুটেজ যাচাই-বাস্তবতা নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

ঘটনাস্থল ও অভিযুক্ত দলের বিবরণ অনুযায়ী স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজটি চোখ রাখছে এই ঘটনার অনুসন্ধান ও বিচারের ওপর। শীর্ষস্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি; ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব কেমন হবে তা সময়ই বলবে।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

15শরীয়তপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো শরীয়তপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব