ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর—স্থানীয় স্টেশন বাজার এলাকার পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করার সময় একজন শিশু নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নানাবাড়িতে আগত ওই শিশু—পরিচয় মারিয়া—আজ বুধবার দুপুরে সমবয়সী দুই শিশুর সঙ্গে নদীতে নামার পরে নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
ঘটনার ক্রম এবং প্রথম প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মারিয়া গতকাল মঙ্গলবার ভেদরগঞ্জের সখিপুরের মাধু সরকারের কান্দি এলাকায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আজ দুপুরে তিন শিশুই স্টেশন বাজার এলাকায় পদ্মার শাখায় গোসল করতে নামে। গোসলের সময় নদীর তীব্র স্রোতে তিন শিশুই পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। আশপাশের লোকজন দ্রুত দৌড়ে এসে দুই জন শিশুকে জীবিতভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও মারিয়া পানিতে ভেসে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা নদীতে জাল ফেলে এবং নৌকা নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। টানা প্রায় তিন ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের অভিযান
ভেদরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার আমির হোসেন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে। তবে তিনি বলেন, নদীর প্রবল স্রোত ও গভীরতার কারণে উদ্ধার কাজ বৈরিত হচ্ছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, নিখোঁজ শিশুটি খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
“নদীর প্রবল স্রোত ও গভীরতা বেশি থাকায় উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। নিখোঁজ শিশুটিকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত এই উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।” — ভেদরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার আমির হোসেন
পরিবারের করুণ আবেদন
নিখোঁজ শিশুটির বাবা কাশেম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মেয়েটি গতকালই নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। আজ দুপুরে এই আনন্দের মুহূর্ত বিষাদে রূপ নিল। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আমার মেয়েকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধারের আকুল আবেদন জানাচ্ছি।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরিস্থিতি
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা বলছেন, এই এলাকায় নদীর স্রোত সময়ে সময়ে প্রবল থাকে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় ধারপরিবর্তন ঘটে, ফলে হঠাৎ করে গহ্বর গঠন হয়ে ডুবের ঝুঁকি বাড়ে। উদ্ধারকার্যে অংশ নেয়া স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিয়মিত নৌকা ও জাল ব্যবহার করে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
- ঘটনার সময়: বুধবার দুপুর (নির্দিষ্ট সময় সংবাদসূত্রে প্রকাশিত নয়)।
- স্থান: স্টেশন বাজার, ভেদরগঞ্জ — পদ্মার শাখা নদী।
- নিখোঁজ: শিশু মারিয়া (পরিচয়সূত্র: পরিবার)।
- উদ্ধার তৎপরতা: স্থানীয়রা প্রথম দায়িত্বে; পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালাচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ ও পরবর্তী করণীয়
উদ্ধারকারীরা বলছেন, নদীর প্রবল স্রোত এবং আকস্মিক গভীরতাই প্রধান বাধা। তাছাড়া সন্ধান-চেষ্টার প্রথম কয়েক ঘন্টা গুরুত্বপূর্ণ; পরে স্রোত শিশুটিকে অন্যত্র নিয়ে যেতে পারে। কারণ অনুসারে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে নদীর উভয় তীরে এবং সম্ভাব্য নৌপথগুলো তল্লাশি করছেন।
| বিষয় | অবস্থা/বর্ণনা |
|---|---|
| নদীর ধরন | পদ্মার শাখা — প্রবল স্রোত ও অনিবার্য গভীরতা |
| প্রাথমিক উদ্ধারকার্য | স্থানীয়রা নৌকা ও জাল ব্যবহার করে; দুই শিশু জীবিত উদ্ধার |
| বর্তমান তৎপরতা | ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ শিশু খুঁজছে |
স্থানীয়রা এবং পরিবার প্রশাসনের ওপর দ্রুত ও ফলপ্রসূ উদ্যোগের অনুরোধ জানিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস আশ্বস্ত করেছে যে, পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত তারা উদ্ধারকাজ বন্ধ করবেন না।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নদী তীরে থাকা লোকজন, পর্যটক ও অতিথিদের সতর্ক থাকার অনুরোধ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার বা ঠিক রাখা সংক্রান্ত কোনও ঘোষণা করলে তা স্থানীয়ভাবে প্রচার করা হবে।