শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার এলাকায় রোববার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে স্থানীয়দের নজরদারিতে ৪৬ পিস ইয়াবা ও ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম তদন্তে জানা গেছে—মো. রাজিব বেপারী (৩০)। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেয়।
ঘটনার বিস্তারিত ও জব্দকৃত মালামাল
পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আরএস-০৬ প্রকল্পের সাব-স্টেশন সংলগ্ন পাকা সড়কে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় স্থানীয়রা রাজিব বেপারীকে সন্দেহ করে আটক করে এবং পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। জব্দকৃত মাদকের মধ্যে একটি সিগারেটের খালি প্যাকেটের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায় ৪৬ পিস ইয়াবা; ইয়াবার মোট ওজন ছিল ৪.৬ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১৩ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে একটি বাজারের ব্যাগ থেকে পাওয়া গাঁজার পরিমাণ ছিল ৫০০ গ্রাম, যার আনুমানিক মূল্য বলা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা.
| জব্দকৃত বস্তু | পরিমাণ | আনুমানিক মূল্য |
|---|---|---|
| ইয়াবা | ৪৬ পিস (৪.৬ গ্রাম) | ১৩,৮০০ টাকা |
| গাঁজা | ৫০০ গ্রাম | ১৫,০০০ টাকা |
| পরিবহনের যান | একটি ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ভ্যান | জব্দ |
গ্রেপ্তার ও পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজন
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, তদন্তকালে রাজিব বেপারীর সঙ্গে থাকা সুরুজ মাদবর (৪২) নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকেই পালিয়ে গেছে। গ্রেপ্তার রাজিব বেপারী পূর্ব নাওডোবা এলাকার পৈলান মোল্লার কান্দি গ্রামের মৃত হারুন বেপারীর ছেলে। আর পালিয়ে যাওয়া সুরুজ মাদবর উকিল উদ্দিন মুন্সিকান্দি এলাকার হারুন মাদবরের ছেলে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ আছে।
পুলিশি করণীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের মন্তব্য
পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার রাজিব বেপারীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন—
“স্থানীয়দের সহায়তায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ একজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ৪৬ পিস ইয়াবা ও ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওসি আব্দুস সালামের ওই মন্তব্য থেকে বেরিয়ে আসে যে স্থানীয় সহযোগিতা ও ইনফরমেশন পুলিশের অভিযানকে কার্যকর করেছে। তবে পালিয়ে যাওয়া আসামি সুরুজ মাদবরকে আটক করার চেষ্টা চলছে—সংশ্লিষ্ট কর্তা-কার্যনির্বাহী ও পুলিশি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও সরকারি অভিযান
পদ্মা সেতুর আশপাশে এমন ধরনের মাদক পরিবহন ও লেনদেন স্থানীয় কমিউনিটিতে উদ্বেগ বাড়ায়। জব্দকৃত পরিসংখ্যান ও পুলিশের অভিযান স্থানীয় জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটেছে—স্থানীয়রা সক্রিয়ভাবে অবগতির মাধ্যমে পুলিশের সহায়তা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে যে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে; তবে জনগণের সহায়তা, নজরদারি এবং দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া পুনরায় এমন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়।
- মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় সহযোগিতা জরুরি ভূমিকা রেখেছে।
- জব্দ করা মাদকের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৯ হাজার আটশত টাকা।
- ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের ও তদন্ত চলছে।
পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার এই তৎপরতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে; তবু পালিয়ে থাকা আসামিকে দ্রুত আটক করা এবং মাদক সরবরাহের শৃঙ্খল চিহ্নিত করা স্থানীয় প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে যাচ্ছে।