মঙ্গলবার সকালে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের বহির্ভাগে সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৯টা পার হয়ে গেলেও নির্ধারিত ৬ জন চিকিৎসকের একজনও উপস্থিত ছিলেন না। ভোর থেকেই জেলার ছয়টি উপজেলা থেকে এসে অপেক্ষা করা প্রায় দুই শতাধিক রোগী ও তাদের স্বজন চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকেন।
লোকাল রোগীদের ভোগান্তি
চিকিৎসা নিতে আসা কাকলি আক্তার ও আনোয়ার হোসেন নামের দুজন ভুক্তভোগী জানান, তারা ভোরেই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে ছিলেন। কিন্তু ঘণ্টা নিয়র পরে মেডিকেল কর্মী কিংবা চিকিৎসকের দেখা না পাওয়া রোগীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের নিয়ে উপস্থিত স্বজনরা দিনের প্রথম অংশেই সমস্যায় পড়েছেন। অনেকের ক্ষেত্রে শারীরিক অসুস্থতা বাড়ায় মানসিক চাপও বেড়েছে।
অপার্যাপ্ত তদারকি ও নির্দেশনার বাস্তব সংকট
স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন ও নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলা না করার ওপর কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে সেই নির্দেশনার বাস্তব প্রতিফলন না থাকার অভিযোগ তুলেছেন রোগীরা। ঘটনাটি স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার মান ও প্রশাসনিক তদারকি ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
“চিকিৎসকদের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশ থাকবে এবং নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে,”
এই মন্তব্যটি হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকরাম এলাহী করেছেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
রোগীরা বলেন, ভোরের আলো ফুটার পরে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মানুষজন দিনভর অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন—কখনও কখনও বিনিময়ে বিলম্ব বা চিকিৎসা না পেলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। বহির্ভাগে দীর্ঘ সময় দাঁড়ানো হওয়ায় বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। স্থানীয়রা দাবি করেন, অবিলম্বে উপস্থিতি নিশ্চিত না করলে তারা উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করবেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক ঘোষণা
হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক জরুরি বৈঠক ডেকে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে নির্দেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সময়মত কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তার বাস্তবায়ন কবে শুরু হবে—এই বিষয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিস্তারিত সময়সূচি এখনও জারি করা হয়নি।
প্রভাবিত সেবা ও সম্ভাব্য জটিলতা
চিকিৎসকের অনুপস্থিতির ফলে বহির্বিভাগে নির্ধারিত পরামর্শ, জরুরি সেবা ও প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রভাবিত হচ্ছে। ফল হিসেবে রোগীদের মধ্যে শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটার আশঙ্কা এবং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
উপদেশ ও ব্যবহারিক তথ্য
স্থানীয় স্বাস্থ্য কমিটির উচিত—অবহেলা হলে দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করা এবং বিকল্প ব্যবস্থা যেমন নিবিড়/জরুরি সেবার জন্য ঘনিষ্ঠ শ্রেণিভিত্তিক হাসপাতালগুলোর সাথে সমন্বয় রাখা। রোগীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সকালে সময় নিলে অফিস শুরু হওয়ার পরে দেখা দেবে এমন রোগীদের জন্য বিকল্প সময় বা পুনঃনির্ধারণের অনুরোধ করা যেতে পারে।
- সমস্যার তাৎক্ষণিক প্রভাব: বহির্বিভাগ সেবা বিলম্বিত ও রোগীর ভোগান্তি বাড়িছে।
- প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি: তত্ত্বাবধায়ক জরুরি বৈঠক ও কারণ দর্শানো/শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
- রোগীর করণীয়: জরুরি অবস্থায় ঠিকাদারী হাসপাতাল বা জরুরি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি।
| বিষয় | উল্লিখিত তথ্য |
|---|---|
| নির্ধারিত চিকিৎসক | ৬ জন |
| প্রতিবেদনকালে উপস্থিত চিকিৎসক | ০ জন |
| অপেক্ষা করা রোগী ও স্বজন | প্রায় ২০০ |
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকি ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত মনোযোগ চাহিতেই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।