বাংলাদেশ রংপুর রংপুর (32)

রংপুরে ফুটপাত দখল: ভাসমান দোকান, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগ ও চলাচলে ঝুঁকি

রংপুর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাতগুলোতে ভাসমান দোকানদারদের দখল বেড়ে ক্রমশ সাধারণ পথচারীরা ব্যস্ত সড়কে নামতে বাধ্য হচ্ছেন; মাসিক ভাড়া, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রশাসনিক তৎপরতার অভাব থেকে সৃষ্টি হচ্ছে নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ।

রংপুরে ফুটপাত দখল: ভাসমান দোকান, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগ ও চলাচলে ঝুঁকি
©অলংকরণ সাবরিনা হক / we-news.com

রংপুর নগরীতে ফুটপাত ও সড়কের উপর অবৈধভাবে দোকানপাট স্থাপন ও ‘ভাসমান’ ব্যবসা সম্প্রসারণে নগরবাসী অর্থগত ও নিরাপত্তাগতভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালালেও অভিযানের কয়েক দিনের মধ্যে একই জায়গায় আবার দোকান বসে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফুটপাত দখল ও মাসিক আয়

স্তরের বিভিন্ন অঞ্চলে — স্টেশন রোড, জাহাজ কোম্পানি মোড়, সিটি বাজার, ধাপ, লালবাগ, শাপলা চত্বর, মেডিকেল মোড়, জিলা স্কুল মোড়, টাউন হল সংলগ্ন স্মৃতিসৌধ চত্বর, লালকুটি মোড়, খামার মেয়রের মোড়, নেসকো অফিস মোড়—ফুটপাতগুলো ব্যাপকভাবে দখল করা হয়েছে। স্থানাভেদে দেখা যাচ্ছে ফুটপাত জুড়ে কাপড়, ফল, সবজি, খাবার, জুতা-স্যান্ডেলসহ নানা ভাসমান দোকান বসানো হয়েছে।এ ধরনের ভাসমান দোকানপাট থেকে প্রায় প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের কাছে।

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রশাসনিক প্রশ্নচিহ্ন

সংবাদ সংগ্রহকালে দেখা গেছে, অনেক ভাসমান দোকানে গাছ, দেওয়াল বা ঘরের সঙ্গে মিটারবক্স ঝুলিয়ে অবৈধ বিদ্যুতের যোগ করা হয়েছে। একটি বা দুই মিটারের সঙ্গে শতাধিক সাবলাইন যুক্ত করার ঘটনা নজরে এসেছে—ফলে বিদ্যুতের অপচয় বাড়ছে এবং মিটারের টেম্পারিং করে বিদ্যুৎ বিভাগকে ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমন অবৈধ সংযোগের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকার কথাও স্থানীয়রা বলছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কেউ এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

  • ফুটপাত দখল: শাপলা চত্বর, স্টেশন রোড, সিটি বাজার প্রভৃতি এলাকায় বিস্তৃত।
  • অর্থোপার্জন: ভাসমান দোকান থেকে মাসিক প্রায় দেড় লাখ টাকা আদায়ের তথ্য প্রচলিত।
  • বিদ্যুৎ ঝুঁকি: মিটার টেম্পারিং ও একাধিক সাবলাইন কেলেঙ্কারি, বিদ্যুৎ বিভাগের অনাস্থ্যজনক দৃষ্টিভঙ্গি।

জনজীবনে প্রভাব ও নিরাপত্তা

ফুটপাত ব্যবহার না পারায় পথচারীরা ব্যস্ত সড়কে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষত স্কুল-কলেজ খোলার ও বন্ধের সময় পরিস্থিতি ক্রমশ কট্টর হয়ে ওঠে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে পড়েন। এ ছাড়াও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উপস্থিতি যানজট ত্বরান্বিত করছে এবং চলাচলকে আরো অস্থির করছে।

“ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের চলাচলের আর কোনো উপায় নেই। অব্যবস্থাপনার কারণে নগরীর ব্যস্ততম সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়ে নগরজীবনে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে,”

— শাপলা চত্বর এলাকার আমজাদ হোসেন বলেন।

দাবি, বাধা ও করণীয়

স্থানীয়রা বলছেন, নিয়মিত অভিযান থাকলেও পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি না থাকার ফলে পুনরায় ফুটপাত দখল হচ্ছে। এছাড়া স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে কিছু জায়গায় চিরস্থায়ী দখলের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যার সমাধানে শুধু উচ্ছেদ নয়, স্থায়ী মনিটরিং, স্থান নির্দেশক আইন প্রয়োগ, ভাসমান ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট অঞ্চল নির্ধারণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ তদন্ত জরুরি বলে স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করেন।

বিষয়অবস্থা
ফুটপাত দখলবহুল ও বিস্তৃত
মাসিক আদায়প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা (অভিযোগ)
বিদ্যুৎ সংযোগঅবৈধ মিটার-টেম্পারিং ও সাবলাইন

নগরবাসীর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু চলাচলের লক্ষ্যে প্রশাসন, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। বিষয়টি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছি; তবে বিদ্যুত্ বিভাগের কেউ কথা বলেননি।

আশা করা যায় স্থানীয় প্রশাসন ছায়ানিরোধক তদারকিতে না জড়িয়ে পুনরায় মানবিক ও নিয়মগত দিক বিবেচনায় এনে স্থায়ী সমাধান খুঁজবে, যাতে নগরবাসী নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারেন এবং সড়কে দুর্ঘটনা-ঝুঁকি কমে।

সাবরিনা হক
সাবরিনা এআই বাংলাদেশ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি সাবরিনা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

32রংপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো রংপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব