ফেনীতে অবস্থিত ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে একটি ছাত্র সংগঠনের বর্ধিত সভা হয়ে পরে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই সভার ছবি প্রকাশ হওয়ার পর কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনা ও নির্বাচিত সীটিং
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী শিক্ষক পরিষদের নির্ধারিত চেয়ারগুলোতে বসেছেন। সভায় অংশগ্রহণকারী একাধিক নেতাকর্মীর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে—কলেজ অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেছেন সাধারণ সচিব জাহেদ হাসান রনি, উপাধ্যক্ষের চেয়ারে বসেছেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান নোমান, পরিষদ সম্পাদকের চেয়ারে বসেছেন সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান আরাভী।
| শিক্ষক পরিষদের আসন | ছাত্রদলের বসা সদস্য |
|---|---|
| কলেজ অধ্যক্ষের চেয়ারে | জাহেদ হাসান রনি (সাধারণ সম্পাদক) |
| উপাধ্যক্ষের চেয়ারে | মাহমুদুল হাসান নোমান (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) |
| পরিষদ সম্পাদকের চেয়ারে | মেহেদী হাসান আরাভী (সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক) |
প্রতিক্রিয়া ও দাবি
ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কলেজের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা প্রতিক্রিয়া এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু হলো—শিক্ষক পরিষদের কক্ষ ও শিক্ষকদের চেয়ারে কোনো রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের বৈঠক করা সাংস্কৃতিক ও প্রতিষ্ঠানগত মর্যাদার পরিপন্থী। অনেকেই বলছেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সম্পর্কের মৌলিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা দরকার।
- কিছু সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী দাবি করছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবহ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
- ছাত্রশক্তির স্থানীয় নেতারা বলেছেন, শিক্ষক পরিষদে দলীয় সভা করা কখনই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি ঐতিহ্যগত নীতির লঙ্ঘন।
- কিছু মন্তব্যে কলেজ অধ্যক্ষ ও পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-অধিকারের আত্মমর্যাদাহীন আচরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
“শিক্ষক পরিষদে ছাত্র সংগঠনের মিটিং এটা তো কখনো ছাত্রলীগও করছে কিনা সন্দেহ”
উপরোক্ত মন্তব্য ছাত্রশক্তির জেলা আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন শাকিল এর ফেসবুক পোস্টের ভাষ্য হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একই ধাঁচের প্রতিবাদ করেন কলেজ ছাত্র সংসদের একাধিক নেতা।
প্রভাব ও স্থানীয় প্রাসঙ্গিকতা
একটি প্রতিষ্ঠানিক কক্ষে ছাত্রদলের সভা আয়োজন নিয়ে প্রকাশিত এই সমালোচনায় ফেনী কলেজ ও আশপাশের শিক্ষাজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে এই ঘটনাটি কয়েকটি দিক থেকে প্রাসঙ্গিক—
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর জনমানসে থাকা বিশ্বাস ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশংকা।
- ভবিষ্যতে শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে থাকা সততা ও সম্মানজনিত সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা।
- এটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে।
এ ছাড়া কলেজের অভ্যন্তরে নীতিগত নিয়ম-কানুন কেমনভাবে প্রযোজ্য হবে, ভবিষ্যতে শিক্ষক পরিষদের কক্ষে কাদের জন্য জায়গা খোলা থাকবে—এসব প্রশ্ন উঠে এসেছে। অনেকেই চাইছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান করে যথাযথ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করুক।
পরবর্তী ব্যবস্থা ও প্রত্যাশা
বর্তমানে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ছবির মাধ্যমেই বিতর্ক শুরু হওয়ায় দেখা যাবে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়। শিক্ষক ও ছাত্রনেতারা উভয় পক্ষের বিবৃতি বা কর্মকাণ্ড স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব বহন করবে—বিশেষত তখন যখন কলেজটি ফেনীর অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দিকনির্দেশনা, সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানিক তদন্ত বা কোন রকম শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে স্থানীয় পাঠক-দর্শকদের তা দ্রুত জানানো হবে।
রিপোর্টার: আবদুল হালিম, ফেনী প্রতিনিধি, WE NEWS