নরসিংদীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল আঞ্চলিক সড়ক—পাঁচদোনা থেকে চরসিন্দুর পর্যন্ত—দুই পাশে বহু মরা ও শুষ্ক গাছ দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন ও তালিকা প্রণয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
পরিদর্শন ও উপস্থাপিত পদক্ষেপ
বুধবার, ১২ আগস্ট দুপুরে পলাশ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্ট সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনে জেলার বনবিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার মো. হায়দার হোসেনসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, সংবাদে উল্লিখিত তথ্যের সত্যতা পেয়েই দ্রুতভাবে মরা গাছগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হবে এবং দ্রুততম সময়ে অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
এই সড়কটি নরসিংদী ছাড়াও আশপাশের জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের মানুষদের প্রতিদিন ব্যবহার করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। সূত্রে বলা হয়, আমতলা থেকে চর্ণগরদী ও জামতলা বাজার পার হয়ে বালিয়া অংশে সড়কের দুই পাশে অনেক গাছ দীর্ঘদিন ধরে মরা অবস্থায় আছে। স্থানীয়রা জানান, সামান্য বাতাস বা কিছু অসতর্কতায় এসব গাছ ভেঙে পড়ে যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা থাকলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ছিল।
- পরিদর্শনকারী প্রধান: পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা—ইশতিয়াক আহমেদ
- অংশগ্রহণকারী সংস্থা: জেলা বনবিভাগ (ডেপুটি রেঞ্জার মো. হায়দার হোসেন), জেলা প্রশাসন, সওজ (সংযুক্ত)
- প্রাথমিক কর্মসূচি: মরা গাছের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো এবং দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া
ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির প্রাসঙ্গিকতা
সংবাদে দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, সড়কের বেশ কিছু অংশে গাছগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে—কোনো সময়ই ভেঙে পড়তে পারে। এই সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন; ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত যানবাহন ছাড়াও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা এ রুট ব্যবহার করেন। এ কারণে মরা গাছ অপসারণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন না হলে জনহানির সম্ভাবনা থেকে যায়।
কীভাবে এগোবে প্রশাসন
প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলা প্রশাসন প্রথমতঃ তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গাছগুলো শনাক্ত করবে। এরপর সওজ ও বনবিভাগের সহায়তায় অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পদ্ধতিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
| ধাপ | কার্য |
|---|---|
| ১ | সরেজমিন পরিদর্শন ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ শনাক্ত |
| ২ | পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি |
| ৩ | সওজ ও বনবিভাগের সমন্বয়ে অপসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন |
স্থানীয়রা এখন কী চান
পথচারী ও যানবাহনচালকরা শুধু তালিকা তৈরি করাই নয়, দ্রুত দৃশ্যমান অপসারণ কার্য সম্পন্ন করার দাবি জানান। তারা বলছেন, প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিটা বাস্তবে বদলে গেলে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি কমবে এবং দৈনন্দিন জীবন-জীবিকা সচল থাকবে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় পরিবেশগত নিরাপত্তা ও সড়কপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা কোন সময়সীমার মধ্যে কার্যকর হবে—এই প্রশ্ন স্থানীয়দের মনে রয়েছে। বনবিভাগ, সওজ ও জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তথ্যসমৃদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করে স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করার আবেদন করা হচ্ছে।
নিরাপদ সড়ক ও জননিরাপত্তা রক্ষা করতে যে কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় সঠিক কৌশল, পরিবেশ-বান্ধব কাটা-পাল্টা এবং গাছ রোপণের বিকল্প পরিকল্পনার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখাও জরুরি। স্থানীয়বাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন যে অঙ্গীকার করেছে তা দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে বাস্তবায়িত হোক—এটাই এখন প্রধান চাওয়া-পাওয়া।