শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ও পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের কয়েকটি অংশে চলতি বর্ষায় পুনরায় পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। গত বছরের ভয়াবহ ক্ষতির স্মৃতি এখনও ঝেড়ে ফেলতে না পারা তীরের মানুষদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, নদীর পানি বেড়ে গত কয়েক দিনে তীব্র স্রোত দেখা যাওয়ায় তীরের অনেক জায়গা ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও উদ্বেগ
বহু পরিবার গত বছরের ভাঙনে বসত-ভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা হারিয়েছিল। এখন আবার একই অঞ্চলে নতুন ভাঙন শুরু হওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। কাথুরিয়ার বাসিন্দা মাহাবুবুর হোসেন স্থানীয় পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন—
“এ বছরও পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। কাথুরিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই নদীভাঙন হচ্ছে।”
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সামান্য করে জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে; বিশেষ করে বৃষ্টির এবং উচ্চ জলের সময় এসব ক্ষয়ক্ষতি তীব্র হচ্ছে।
ব্রাস্ত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভাঙন নিয়ন্ত্রণে একটি বড় প্রকল্পের কাজ চলছে—প্রকল্পের আওতায় ১০.৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় হয়ে উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর কাজ বর্ষা শুরুর আগেই শেষ না হওয়ায় আশা পূরণ হয়নি এবং কাজের গতি কিছু স্থানে ধীর ও কিছু স্থানে অসম্পূর্ণ রয়েছে।
কী কারণে কাজ বিলম্বিত—তথ্যগত ইঙ্গিত
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, প্রকল্পের একটি অংশের নকশা পরিবর্তন ও প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের অনুমোদন পেতে মন্ত্রণালয়ে সময় লাগায় কাজের গতি স্থগিত হয়েছে। নির্মাণকাজের এই বিলম্ব বেশিরভাগ অঞ্চলে ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
স্থানীয়দের দাবি ও আশঙ্কা
- তাত্ক্ষণিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।
- অপরিহার্য ক্ষেত্রে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ত্রাণ দিতে প্রশাসনকে বলছেন।
- দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান বজায় রাখা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
সর্বজনীন প্রভাব ও উপযুক্ত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন
নদীভাঙন শুধুমাত্র একক পরিবার নয়, সমগ্র স্থানীয় জনজীবন—রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষি জমি ও গবাদিপশুর চারণস্থল—সবকিছুকে প্রভাবিত করে। গত বছরের ভাঙনে বহু পরিবার না কেবল জমি হারিয়েছে, বরং তাদের জীবনযাত্রার উৎসও ধ্বংস হয়েছে; এখন পুনরায় একই ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
পরবর্তী করণীয়—সংক্ষেপে
| বিষয় | প্রকল্প/মান |
|---|---|
| তীররক্ষা বাঁধের দৈর্ঘ্য | ১০.৬৭ কিমি |
| প্রস্তাবিত ব্যয় | প্রায় ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা |
স্থানীয়দের দাবি, উপরে উল্লেখিত কাজের দ্রুত সমাপ্তি ও বর্ষার আগে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জরুরি বাঁধ ও পলিথিন, বালু-টেকনিক্যাল ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে স্থানীয় সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে—এই আবেদন তারই প্রতিফলন।
উপজেলার সাধারণ মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় নেতারা বলেন, প্রকল্পের কাজ গতি ত্বরান্বিত হলে অন্তত সাময়িক স্বস্তি মিলবে; না হলে চলতি বর্ষায় পুনরায় বড় ধরনের ভাঙনে বহু পরিবার সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে দ্রুত ও সঠিক তথ্য পাওয়া প্রয়োজন—বিশেষত কার্যক্রমের সময়সীমা, বাকি কাজের পরিধি এবং জরুরি প্রতিরোধের পরিকল্পনা সম্পর্কে। স্থানীয় জনগণের জীবন-জমি রক্ষায় তা জরুরি।