অনুশোচনা ও উদ্ধারকৃত মালামাল
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় শনিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের ভাড়া করা একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে সেখানে গড়ে তোলা অবৈধ সিগারেট কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। অভিযানে প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত সিগারেটগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা, এবং পাশাপাশি সিগারেট তৈরির কাজে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
অভিযান ও অনুসরণকারী আইনগত ব্যবস্থা
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গোডাউনের ভেতরে কায়েম করা অবৈধ উৎপাদন কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি জানান, অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দ মালামাল পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দে পড়ায় মালিক-ভাড়াটিয়া সম্পর্ক ও অভিযুক্তদের দাবি
গোডাউনের মালিক হাবিব মাস্টার অভিযুক্ত কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, তিনি ওই গোডাউনটি পোস্টিং করা অবস্থায় জয়রামপুর এলাকার শাকিল ও বৈদ্যনাথতলা এলাকার লিওন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকা ভাড়ায় দিয়েছিলেন। তিনি জানান, সেখানে নকল সিগারেট তৈরির কার্যক্রম চলছিল সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। দফায় দফায় আইনশৃঙ্খলা সংস্থার অভিযানের পরেও আদালতের মাধ্যমে কিছু কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টিও তিনি উত্থাপন করেন।
“আমি একজন স্কুলশিক্ষক। স্কুলের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ওই দিকে খুব একটা যাওয়া হয় না।”
পূর্বের অভিযান ও পুনরায় চালু হওয়ার অভিযোগ
মাধ্যমিক সূত্রে জানা যায়, ৯ মে র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একই কারখানায় অভিযান চালানো হয়েছিল। সেতি সময়ে পাঁচটি নকল সিগারেট তৈরির মেশিন এবং প্রায় ১ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয় এবং কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য বলছে, তা কিছুদিন পর পুনরায় চালু হয়েছে। প্রশাসন এ বিষয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া জোরদারে নির্দেশনা দিচ্ছে।
উদ্ধার ও জব্দের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| আইটেম | পরিমাণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| নকল সিগারেট (শলাকা) | প্রায় ২০ লাখ | বিভিন্ন ব্র্যান্ডে—নেভি, ডার্বি ও রয়েল |
| জব্দকৃত মূল্য | প্রায় ২ কোটি টাকা | আনুমানিক বাজার মূল্য |
| পূর্বাভাস/পূর্ব অভিযান | ১ মে (৯ মে অভিযানের অংশ) | পূর্বে ~১ লাখ শলাকা ও ৫টি মেশিন জব্দ করা হয়েছিল |
স্থানিক প্রভাব ও প্রশাসনের গুরুত্ববোধ
অবৈধ সিগারেট উৎপাদন স্থানীয় বাজারে নকল পণ্যের সরবরাহ বাড়ায়, সরকারি রাজস্ব হানি ঘটায় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়—এগুলো ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। দৌলতপুর অঞ্চলের এই ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি প্রশাসনিক তদারকি ও আইনি ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগের দক্ষতার প্রশ্ন তোলে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, জব্দ মালামাল দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলার মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
- অভিযানে কাউকে আটক করা হয়নি; আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
- একই স্থানে পূর্বে র্যাব-কাস্টমস অভিযানে জব্দ ও সিলগালা হয়েছিল; তারপরও পুনরায় কারখানা চালু হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
- স্থানীয় মালিক দাবি করেছেন তিনি শুধু ভাড়াটে; কারখানা চালানোর বিষয়ে তিনি অনভিজ্ঞ ও অনুপস্থিত ছিলেন।
দৌলতপুরে অবৈধ কারখানার পুনরাবৃত্তি রোধে কড়া নজরদারি, ভাড়াদাতা-ভাড়াটিয়া চেনা ও আদালত-প্রশাসন পর্যায়ের সুশৃঙ্খল সমন্বয়ই প্রয়োজন—এটি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও প্রশাসনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।