আদিবাসী জীবন-জীবিকা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে রোববার বান্দরবানের রাজমাঠে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। অনুষ্ঠানে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ধারা দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
আয়োজনা ও অংশগ্রহণ
সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আদিবাসী তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান আদিবাসী ফোরামের সভাপতি ডা: মং উসাথোয়াই। প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং মারমা।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আরও কয়েকজন পাহাড়ি নেতৃবৃন্দ—থোয়াইচা প্রু মাস্টার, জিরকুং সাহু ও উছোমং মারমা প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে রাজার মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে ফিরে শেষ হয়।
কী দাবি উঠেছে
সমাবেশে ভাষণকারীরা প্রধানত নিম্নলিখিত দাবি তুলে ধরেন:
- পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ধারাসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন।
- আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।
- পার্বত্য জেলায় অবৈধ বসবাসকারীদের উচ্ছেদ এবং আদিবাসীদের ভূমি-স্বত্ত্ব সুরক্ষা।
- আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, জীবন ও জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করা।
“আদিবাসীদের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্ব সংরক্ষণে আদিবাসী সমাজের সৃজনশীল শক্তি প্রয়োগ”
উক্তিটি দিবসের প্রতিপাদ্য হিসেবে নানা কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং বক্তারা এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকারি নীতির পুনর্বিবেচনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
সংগঠনের দাবির নমুনা ও স্থানীয় অনুরুপ প্রতিক্রিয়া
আন্দোলনশীল অংশগ্রহণকারীরা বলছিলেন, যুদ্ধবিরতির সূত্র ধরে স্বাক্ষর হওয়া শান্তি চুক্তির লেখায় থাকা ধারাগুলো এখনও মাঠ পর্যায়ে ঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। তাই চুক্তির অগ্রাধিকারভিত্তিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানানো হয়।
র্যালিতে জেলার বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন—তারা নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার সম্পর্কে গুরুত্বারোপ করেন এবং বলছেন, ন্যায্য স্বীকৃতি ছাড়া ঊন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রকৃত তরে উপকার দিতে পারবে না।
| অনুষ্ঠানের উপাদান | সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|
| আলোচনা সভা | স্থানীয় নেতারা শান্তি চুক্তি ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন |
| র্যালি | রাজার মাঠ থেকে শহর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে সমাপ্ত |
| অংশগ্রহণকারী জনগোষ্ঠী | ১২টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সংগঠন |
স্থানীয় গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বান্দরবানে এ ধরনের গণমাধ্যমে প্রকাশ্য দাবি স্থানীয় ও জাতীয় নীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সচেতনতা বাড়ানো ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গঠনের মাধ্যমে আদিবাসী সংগঠনগুলো তাদের দাবি নিয়মিতভাবে পুনরাবৃত্তি করছে—যা প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি; তবে সভায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, বাস্তব পরিবর্তন আনতে হলে সংলাপ ও নীতি প্রয়োগ উভয়কেই সমান্তরালে এগোতে হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে পরিবার ও সম্প্রদায়গুলোও র্যালি ও আলোচনায় অংশগ্রহণ করে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবিসমূহ উপস্থাপন করেছে—যা সামাজিক ঐক্য বজায় রাখার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় পর্যায়ে এসব দাবি কত দ্রুত ও কীভাবে উত্তর পাবে তা সময়েরই বিষয়। তা না-হওয়া পর্যন্ত বাঁধভাঙা প্রত্যাশা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অটলতা নিয়ে বান্দরবান থেকে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকারই সম্ভাবনা বেশি।
উম্মে হাবিবা, বান্দরবান প্রতিনিধি