নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস-এর ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮২ পরীক্ষার্থী সকলেই জিপিএ‑৫ পেয়েছে—এমন ফলাফল প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাতে আনন্দের মধ্যে কিন্তু বর্ণহীন প্রশ্নও জড়িয়েছে। সাবলীলভাবে শতভাগ জিপিএ‑৫ দেখালেও প্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণিতে ২০২৪ সালে নিবন্ধিত থাকা ৬০১ শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেননি ২১৯ শিক্ষার্থী। এই ফাঁক এবং তাদের স্কুল ত্যাগের পেছনে কি যোগ্যতার পরীক্ষা, নাকি অন্য কোনো কারণ কাজ করেছে—এসব নিয়ে অভিভাবক ও কিছু প্রাক্তন শিক্ষার্থীর তীব্র অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবক ও ছাত্রদের অভিযোগ
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করার সুযোগই দেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের শতভাগ জিপিএ‑৫‑এর রেকর্ড রেখে যেতে টেস্টকে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই জন্য অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা করার অনুমতি না দিয়ে টিসি দেওয়া হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অন্য স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
"আমার ছেলে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস থেকে পঞ্চম শ্রেণি থেকে পড়েছে। এসএসসি পরীক্ষার আগে টেস্টে বায়োলজিতে কম নম্বর পেয়েছিল। এরপর তারা জোরপূর্বক টিসি দিয়েছে। ভর্তির সময় ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। আমার ছেলে জিপিএ‑৫ পেয়েছে। এটা তো অন্যায়।"
এক নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে এনকেএমে ভর্তি হন। অষ্টম শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে বের করে দেওয়া শুরু হয়; খাতা কঠোরভাবে দেখার আড়ালে অনেককে সরিয়ে দেওয়া হয়—তারা বলেন, "তারা শুধু জিপিএ‑৫ খুঁজবে, সবাই তো জিপিএ‑৫ পাবে না।"
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে ভালো ফল—কোন ভাবনার ইঙ্গিত?
স্থানীয়ভাবে দেখা গেছে, টেস্টে বাদ পড়া শিক্ষার্থীরা নরসিংদীর বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি হয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং বেশ ক’জন ভালো ফলও অর্জন করেছেন। উদাহরণস্বরূপ:
- নরসিংদী সানবীন স্কুলে ভর্তি হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জন জিপিএ‑৫ পেয়েছেন।
- ঘোড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়া ৫ জনের মধ্যে ৩ জন জিপিএ‑৫ পেয়েছেন।
- নরসিংদী মডেল স্কুলে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা দেওয়া ৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ জন জিপিএ‑৫ পেয়েছেন।
সংখ্যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| নবম শ্রেণিতে ২০২৪ সালে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী | ৬০১ |
| এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী (২০২৬) | ৩৮২ |
| নবম থেকে এসএসসি পর্যন্ত অংশ নিতে পারেনি | ২১৯ |
প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগের প্রতিক্রিয়া
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যভাবে কোনো বিবৃতি সূত্রে পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীরা বলছেন, টেস্টকে অপসারণপূর্বক শিক্ষার্থী বাছাই এবং কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক চাহিদা প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব বা অনৈতিক সৃষ্টি—এসব বিষয় শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষের তদন্তে উন্মোচিত হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষা অফিস ও মাধ্যমিক কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। অভিভাবকরা চান, দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত করে ফলাফল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক এবং কঠোরভাবে দেখা হোক—শিক্ষার্থীদের অকারণে স্কুল ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে কি না।
স্থানীয় প্রভাব ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রশ্ন
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ জিপিএ‑৫ ফলাফল ইতিবাচক হলেও একই সঙ্গে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেলে সেটা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অভিভাবকদের অভিযোগ যদি সঠিক হয়, তবে নির্ধারিত সময় স্কুল পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত এবং আর্থিক ক্ষতিও হতে পারে।
স্থানীয়ভাবে এখন চাহিদা থাকবে—কর্তৃপক্ষের কাছে ভূমিকা স্পষ্ট করা, পদক্ষেপ গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ। অভিভাবকরা বলছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা প্রতিবেদন পাবেন এবং একইসাথে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা রোধে কার্যকর নজরদারি চান।