পরিবেশ মৌলভীবাজার মৌলভীবাজার (52)

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে চারটি বন্যপ্রাণী উদ্ধার

শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন স্থান থেকে চারটি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন; সেগুলো পরে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংস্থাটির পরিচালক খাদ্যাভাব ও বাসস্থান নষ্ট হওয়ার কারণ উল্লেখ করেছেন।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে চারটি বন্যপ্রাণী উদ্ধার
©অলংকরণ ঝর্ণা বিশ্বাস / we-news.com

শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন লোকালয় থেকে মোট চারটি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো হলো — একটি লজ্জাবতী বানর, একটি তক্ষক, একটি দাঁড়াশ এবং একটি অজগর। সংস্থার প্রতিনিধি উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো পরে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগে হস্তান্তর করেছেন।

ঘটনা ও উদ্ধার কার্যক্রম

সংবাদ অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) শ্রীমঙ্গল শহরতলীর উত্তর ভাড়াউড়া এলাকায় গাছ থেকে পড়ে আঘাত প্রাপ্ত এক লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়। বাড়ির লোকজন ঘটনাটি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। এরপর ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে বানরটি উদ্ধার করেন এবং প্রাথমিকভাবে দেখাশোনা করেন।

একই দিন দুপুরে আশিদ্রোন ইউনিয়নের নোয়াগাঁও শাইঠুলা প্রজেক্ট-২ এলাকার একটি পুকুরে মাছ ধরার জালে আটকে থাকা একটি দাঁড়াশ সাপ উদ্ধার করা হয়। প্রকল্পের ম্যানেজার বিষয়টি ফাউন্ডেশনের কাছে জানালে স্বপন দেব সজল, রাজদীপ দেব দীপরিদন গৌড় সেখানে গিয়ে আহত সাপটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

সকালে রূপশপুর এলাকার রুপন পালের ঘরের ঠাকুরঘর থেকে একটি তক্ষক উদ্ধার করা হয়। অপর একটি কেসে, হাইল হাওরের ধানক্ষেত পাশের একটি ডোবায় শুক্রবার বিকেলে মাছ ধরার সময় মঞ্জু মিয়া নামের এক ব্যক্তি অজগর সাপটি দেখতে পান। খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা এসে সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।

কারণ ও প্রতিক্রিয়া

বঙ্গানির্তা সংস্থার পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, বনাঞ্চলে খাদ্যাভাব এবং বাসস্থানের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে বিরল প্রজাতিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। তিনি আরও বলেন প্রাণীগুলোকে পুনরায় বনে অবমুক্ত করার জন্য শ্রীমঙ্গল বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে।

"বনে খাদ্যাভাব ও বসবাসের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণেই বিরল প্রজাতির প্রাণীসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে," — স্বপন দেব সজল, পরিচালক, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন

স্থানীয় প্রভাব ও সংরক্ষণগত প্রশ্ন

শ্রীমঙ্গল ও সমীপবর্তী এলাকায় মানুষের সাথে বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শ বাড়ার ফলে সেখানকার কৃষক, মাছ শিকারি ও গৃহস্থদের জন্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে আহত থাকা অথবা মানুষের নাগালের ভিতরে আসা বড় ধরনের সাপ জাতীয় জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।

  • উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো: লজ্জাবতী বানর, তক্ষক, দাঁড়াশ, অজগর
  • উদ্ধারকারীরা: বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয়রা
  • বর্তমান অবস্থান: প্রাণীগুলো শ্রীমঙ্গল বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে

স্থানীয় বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকাভিত্তিক সচেতনতা বাড়ানো, ক্ষতিগ্রস্ত বাসস্থান পুনরুদ্ধার ও খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে বনবিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

উদ্ধারকৃত প্রাণী উদ্ধার স্থান (প্রচলিত) অবস্থা
লজ্জাবতী বানর উত্তর ভাড়াউড়া, শ্রীমঙ্গল আঘাতপ্রাপ্ত, উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা
দাঁড়াশ সাপ নোয়াগাঁও শাইঠুলা, প্রজেক্ট-২ পুকুর জালে আটকে, আহত, প্রাথমিক চিকিৎসা
তক্ষক রূপশপুর, শ্রীমঙ্গল উদ্ধারকৃত
অজগর হাইল হাওর পাশের ডোবা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে বন ও জলবায়ু সম্পর্কিত নীতির বাস্তবতা ও তার প্রভাবের প্রশ্নকে সামনে এনেছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও বন্যপ্রাণীর জন্য নিরাপদ পুনর্বাসন হচ্ছে দ্রুত আর কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগের আবেদন।

ঝর্ণা বিশ্বাস
ঝর্ণা এআই পরিবেশ সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ঝর্ণা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

52মৌলভীবাজার

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো মৌলভীবাজার, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব